
কক্সবাজারের টেকনাফে প্রতিপক্ষের হামলায় শফি উল্লাহ (২৩) নামের এক কলেজশিক্ষার্থী মারা গেছেন। আজ রোববার ভোরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বাড়ির পাশের চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে গতকাল শনিবার বিকেল চারটায় তাঁকে পিটিয়ে আহত করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। গুরুতর আহত শফি উল্লাহকে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত শফি উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের পুরাতন পাড়ার বাসিন্দা হাফেজ মুখতার আহমদের ছেলে। তিনি হ্নীলার মাঈনুদ্দীন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত কলেজছাত্রের বড় ভাই হাবিব উল্লাহ বলেন, বাড়ির রাস্তা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন ছিল। বিচার শেষ হওয়ার আগেই প্রতিপক্ষ জহির আহমদ ও তাঁর ছেলে ইসমাইল, ইসহাক, ইদ্রিস, ইলিয়াসসহ কয়েকজন শনিবার বিকেলে তাঁদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে শফিকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাতে শফি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। আজ ভোর চারটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। শফি উল্লাহর বাবা মুক্তার আহমদ বলেন, শফি উল্লাহকে মারধরের পাশাপাশি মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে কয়েকবার বমি করেছিল।
এ প্রসঙ্গে জানার জন্য অভিযুক্ত জহির আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থল ঘুরে এসে টেকনাফ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শুভ মিত্র বলেন, বাড়ির পাশের রাস্তা ব্যবহার নিয়ে শফি উল্লাহর সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাইদের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরে শফির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত শফির মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।