
সড়ক দুর্ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় মামলাটি করেন।
মৌমিতা হালদার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও নগরের মুন্সীপাড়ার তরুণ হালদারের মেয়ে ছিলেন। ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় খুলনা জেলা পরিষদ ভবনের সামনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রিকশা থেকে পড়ে মারা যান তিনি।
ঘটনার পরদিন ৩১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাতক চালককে গ্রেপ্তার, সংশ্লিষ্ট গাড়ি জব্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথকভাবে চিঠি দেওয়া হয়।
এদিকে আজ বেলা ১১টায় ক্লাস বর্জন করে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম। তিনি বলেন, মৌমিতার মৃত্যুর তিন দিন পার হলেও ঘাতক চালক ও গাড়ি শনাক্ত না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের জন্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, মৌমিতার পরিবার মামলা না করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে স্পিডব্রেকার মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও অংশ দেন। তাঁরা দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি ও শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নগরে লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল বন্ধের দাবিও তোলেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছি। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছি। ঘাতক চালক ও গাড়ি শনাক্ত চেষ্টা অব্যাহত আছে।’