টাঙ্গাইলে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। বুধবার বিকেলে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে
টাঙ্গাইলে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। বুধবার বিকেলে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে

সাড়ে ১৫ বছর যাঁরা মজলুম ছিলেন, তাঁরা এখন ভিন্ন ভূমিকায়: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি বিভিন্ন জায়গায় শুনতে পাচ্ছি, যাঁরা আমাদের মতো মজলুম ছিলেন সাড়ে ১৫ বছর। তাঁরা এখন ভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন। চাঁদাবাজি করছেন, দুর্নীতি করছেন। মামলা–বাণিজ্য, দখল–বাণিজ্য করছেন। শুধু তা–ই নয়, এখন নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য নির্বাচনী এজেন্টদের ঘরে ঘরে গিয়ে নাকি তাঁরা হুমকি দিচ্ছেন।’

আজ বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরে টাঙ্গাইলের আটটি আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতের আমির।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ভুলে যান, সেদিনের কবর রচনা হয়ে গেছে। আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব, এই দিন এখন আর নাই। আপনার ভোট আপনি দেবেন, আমারটা আমি দেব ইনশা আল্লাহ। আপনার পছন্দমতো আপনার ভোট দেন। ১৮ কোটি মানুষ তাঁদের পছন্দমতো তাঁদের ভোট দেবেন। এখানে আবার গায়ের শক্তি, কালোটাকা, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানুভারিং কিছুই মানা হবে না।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা সিজনাল পলিটিশিয়ান না। আমরা বসন্তের কোকিল না। যখন নির্বাচন আসবে, তখন এসে নতুন রং ধারণ করে, সুন্দর সুন্দর কথা নিয়ে আমরা হাজির হব না। আপনারা সাক্ষী, সাড়ে ১৫ বছর আমাদের ওপর এত জুলুম হওয়ার পরও আমরা এক দিনের জন্য জনগণকে ছেড়ে কোথাও যাইনি। এই মাটি কামড় দিয়েই আমরা ছিলাম। আল্লাহ আমাদের এখানে রেখেছিলেন। দফায় দফায় জেলে গিয়েছি, ঘরবাড়িছাড়া হয়েছি, অফিসে ঢুকতে পারি নাই। কিন্তু বাংলাদেশে ছিলাম।’

জামায়াতকে সবচেয়ে নির্যাতিত দল উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আর কোনো সংগঠনের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে শেখ হাসিনার সরকার খুন করেনি। আর কোনো সংগঠনের নিবন্ধন কেড়ে নেয়নি। আর কোনো সংগঠনের প্রতীক কেড়ে নেয়নি। আর কোনো সংগঠনের সমস্ত অফিস তালাবদ্ধ করে রাখেনি। আর কোনো সংগঠনের নেতাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়নি। আর কোনো সংগঠনকে শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। এটা একমাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘যারা সরকারের বাইরে বিরোধী দল, আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। শুধু বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীরা মজলুম ছিলেন না, এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ মজলুম ছিল। আলেম-ওলামা মজলুম ছিলেন। ছাত্র-জনতা মজলুম ছিল। সাংবাদিক বন্ধুরা মজলুম ছিল। সুশীল সমাজের সদস্যরা মজলুম ছিল। ব্যবসায়ীরা মজলুম ছিল। কৃষক–শ্রমিক সবাই মজলুম ছিল। আগস্টের পাঁচ তারিখ যখন আল্লাহ–তায়ালা সাময়িক মুক্তির ব্যবস্থা করে দিলেন, সেই মজলুম সংগঠন জামায়াতে ইসলামী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার জন্য মিছিল বের করে নাই। নির্বাচন দাবি করে নাই। কারও কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয় নাই। হাজার হাজার মামলা বাণিজ্য করে মানুষকে হয়রানি করার সিদ্ধান্ত নেয় নাই।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘১২ তারিখের টার্নিং পয়েন্টে জাতির ভাগ্য বদলে দেওয়ার জায়গায় ঐতিহাসিক দায়িত্ব আমাদের পালন করতে হবে ইনশা আল্লাহ। জুলাইয়ের যুবকেরা, তোমাদের কী শক্তি নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে? এখনো সজাগ আছো? মুখে বল আছে? ইনশা আল্লাহ। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন এই জাতি আগামী ১২ তারিখ আদায় করে ছাড়বে ইনশা আল্লাহ।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা জাতিকে নিয়ে আর পেছনে যেতে চাই না। আমরা সামনে যেতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে শিশুটি উপযুক্ত শিক্ষা পাবে। উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে সুস্থ হয়ে বড় হওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাবে। নিরাপদ রাস্তা পাবে। নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে। এরপর যখন বড় হবে, হাতের মধ্যে কাজ পাবে। এরপর যখন আরও বড় হবে, দেশটাকে গড়ে দেবে। আমরা সেই বাংলাদেশটা চাই, যে বাংলাদেশে আমার মা, আমার বোন, আমার মেয়ের শতভাগ নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত হবে ইনশা আল্লাহ। এটা ঘরে, রাস্তায়, কর্মস্থলে—যেখানেই হোক, সব জায়গায় একই হবে। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে মানুষ তার যোগ্যতা এবং তার অবদান অনুযায়ী মূল্যায়িত হবে।’