ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন নেই। আজ সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম নগরের গণি বেকারি মোড়ে
ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন নেই। আজ সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম নগরের গণি বেকারি মোড়ে

অকটেনের সরবরাহ বাড়ায় চট্টগ্রামে ফিলিং স্টেশনে কমেছে ভিড়

চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট এলাকার বাদশা মিয়া অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে চোখে পড়ল ভিন্ন দৃশ্য। মোটরসাইকেল মাত্র দুটি। তেল নিয়ে মুহূর্তেই বেরিয়ে গেল সেগুলো। নেই কোনো সারি, নেই ভোগান্তি। অথচ মাত্র দুদিন আগেও এই স্টেশনের সামনে শতাধিক মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে তেল পাননি।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গিয়ে দেখা গেল, পুরো স্টেশনটাই প্রায় ফাঁকা। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবরক্ষক শফিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল সোমবার সাড়ে চার হাজার লিটার অকটেন পেয়েছি। গতকালও বিক্রি চলছে। এখন আর আগের মতো ভিড় নেই।’

একই চিত্র ষোলশহর এলাকার ফসিল ফিলিং স্টেশনেও। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল মাত্র তিনটি মোটরসাইকেল। তেল নিয়ে বের হতে থাকা এক চালক বলেন, ‘গত দেড় মাস এত সহজে তেল নিতে পারিনি। আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হতো। এখন এসে মিনিটেই তেল পাচ্ছি। দাম বাড়ানোর পরই ভিড় কিছুটা কমে গেছে।’

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা গিয়েছিল নগরের কিউ সি ট্রেডিং লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে। কোনো কোনো দিন এখানে অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারির দৈর্ঘ্য এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেত। তবে গতকাল সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা গেল, সে চাপ অনেকটাই কমেছে। লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি ও মোটরসাইকেল। চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন চালকেরা।

স্টেশনটির ব্যবস্থাপক মীর খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরবরাহ বাড়ার কারণে এখন ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। গতকাল ২৭ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছি। চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছি।’

বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না, দ্রুতই তেল পাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকেরা। আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি মোড়ে

তবে সব জায়গায় একই পরিস্থিতি নয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বায়েজিদ থানার সেনা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অকটেন না থাকায় বিক্রি বন্ধ। কিন্তু ডিজেলের জন্য ভারী যানবাহনের লম্বা সারি। বিক্রয়কর্মীরা জানান, বেলা তিনটা পর্যন্ত অকটেনের বিক্রি চলেছে। এরপর বন্ধ। প্রবর্তক এলাকার আলহাজ ফয়েজ আহমদ অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনেও সন্ধ্যায় অকটেনের সরবরাহ ছিল না।

দেশে সরকারিভাবে তেল আমদানি ও বিক্রির কাজটি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসি সূত্র জানায়, চলতি মাসে ২টি জাহাজে মোট ৫৩ হাজার টন অকটেন এসেছে। মজুত বাড়ার পর গতকাল থেকে অকটেনের সরবরাহ প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১ হাজার ১১৫ টন, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪২২ টনে।