
শরীয়তপুরের ডামুড্যার ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট নামের একটি সংগঠন শনিবার বিকেলে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এরপর সন্ত্রাসীরা তাঁর গায়ে পেট্রলজাতীয় পদার্থ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খোকন চন্দ্র দাস মারা যান। খোকন চন্দ্র উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি কেউরভাঙা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী ছিলেন।
খোকন দাসের ওপর হামলার ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। খোকন দাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন, এলাকার মানুষ ও কেউরভাঙা বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট নামের একটি সংগঠন জেলা শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা শহরের ঢাকা শরীয়তপুর সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হেমন্ত দাস, জেলা কমিটির নির্বাহী সভাপতি চঞ্চল মজুমদার, সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র ব্যাপারী, সাধারণ সম্পাদক নৃপেন দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল দত্ত, সদস্য টিটু, জেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুশীল চন্দ্র দেবনাথ, একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক পলাশ চন্দ্র রায় প্রমুখ। বক্তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
কনেশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিলই গ্রামের বাসিন্দা পরেশ চন্দ্রের ছেলে খোকন চন্দ্র দাস। তিনি ২০ বছর ধরে কেউরভাঙ্গা বাজারের ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করেন। ওই ব্যবসার ফাঁকে তিনি পল্লিচিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। প্রতিদিন রাতে ব্যবসার কাজ শেষ করে বাজার থেকে তিলই গ্রামের বাড়িতে ফেরেন।
ডামুড্যা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে ছয় লাখ টাকা নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন খোকন চন্দ্র দাস। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ডামুড্যা-শরীয়তপুর সড়কের তিলই বাসস্ট্যান্ডের কাছে নামেন। এরপর তিনি ইটের রাস্তা ধরে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর তিনজন সন্ত্রাসী তাঁর গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের চারটি স্থানে আঘাত করে। এরপর তারা খোকন চন্দ্রর শরীরে পেট্রলজাতীয় পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য খোকন সড়কের পাশে একটি পুকুরের মধ্যে ঝাঁপ দেন। আশপাশের লোকজন তাঁর চিৎকার শোনে ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন খোকন চন্দ্রকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে জরুরি বিভাগে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় খোকন চন্দ্রকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই দিন রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তিনি মারা যান।
মারা যাওয়ার আগে খোকন হামলায় অংশ নেওয়া দুজনের নাম বলেছেন। তাঁরা হলেন কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭) ও সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১)। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ওই ঘটনায় অংশ নেওয়া আরেকজনের নাম জানতে পেরেছে। ওই ব্যক্তি স্থানীয় শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ডামুড্যা থানায় একটি মামলা করা হয়। খোকন দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় ওই তিন তরুণকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হক প্রথম আলোকে বলেন, মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। পুলিশ চেষ্টা করছে আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য। ঢাকার শাহবাগ থানার মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে।