সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে দুজন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ জন্য তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রথমে পাঁচটি আসনের জন্য প্রার্থী দিলেও শেষমেশ একটি আসন থেকে তাদের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৩৯ জন। যাচাই–বাছাইয়ের পর বাদ পড়া ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ফলে এখন সেখানে ২৩ প্রার্থী রয়েছেন। এই ২৩ জনের মধ্যে ১০ দলের ১৯ জন ও স্বতন্ত্র চার প্রার্থী রয়েছেন। স্বতন্ত্র চারজনের মধ্যে দুজন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সুনামগঞ্জ–৩ আসনে (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী হলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। গতকাল বুধবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ইয়াসীন খান প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু তিনি শেষমেশ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। জামায়াতে ইসলামী এই আসনে ‘১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’কে ছাড় দিলে জোটের আরও তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের শেখ মুশতাক আহমদ ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সৈয়দ তালহা আলম। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া জোটের অন্যদের জন্য এ আসনটি ‘উন্মুক্ত’ রাখা হলেও জামায়াত তাঁদের কাউকে সমর্থন দেয়নি।
ইয়াসীন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জোটের শরিক দলের প্রার্থীদের মতামত ছিল এখানে যেন জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী না থাকেন। তাই দলের সিদ্ধান্তে আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি। তবে আমরা কাউকে সমর্থন দিচ্ছি না।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখানে দলীয় (বিএনপির) মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় নেতা–কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাই আমি প্রার্থী হয়েছি এবং যেখানেই যাচ্ছি, মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’ এই আসনে আরও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন মাহফুজুর রহমান খালেদ ও হুসাইন আহমেদ।
সুনামগঞ্জ–৪ আসনে (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী হলেন দলের জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য নূরুল ইসলাম। দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি দলের জেলা কমিটির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। গতকাল তাঁকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন, ‘আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠা থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত। চারবার সদর উপজেলা ও একবার পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। একবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছি, কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। আমি সবাইকে নিয়েই নির্বাচন করছি।’
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হলেন দলের জেলা কমিটির নায়েবে আমির মো. শামছ উদ্দিন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী নাজমুল হুদা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহীদুল ইসলাম।