তমাল ভ্যান চালানোর সময় দুই যাত্রীকে ভ্যানে বসে থাকতে দেখা যায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নাটোর শহরের নিচাবাজার এলাকায়
তমাল ভ্যান চালানোর সময় দুই যাত্রীকে ভ্যানে বসে থাকতে দেখা যায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নাটোর শহরের নিচাবাজার এলাকায়

ঋণে কেনা অটোভ্যান চুরি গেছে, পড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কিশোর তমাল

পড়ার খরচ জোগাতে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করত কিশোর তমাল আলী। জমানো টাকা আর বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে নেওয়া ঋণে কিনেছিল ব্যাটারিচালিত একটি অটোভ্যান। সেই অটোভ্যান চালিয়েই সে নিজের পড়ার খরচ মেটাত, পরিবারকেও সহায়তা করত। কিন্তু গতকাল শুক্রবার দুপুরে নাটোর শহরের নিচাবাজার এলাকা থেকে অটোভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে।

চুরির অভিযোগ ভ্যানে থাকা অপরিচিত দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে। ভ্যান হারিয়ে এখন ঋণ ও পড়ার খরচ কীভাবে চালাবে, সেই দুশ্চিন্তায় দিশাহারা তমাল।

ঘটনার পর শুক্রবার রাতে তমাল (১৬) নিজে বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সে নাটোরের লালপুর উপজেলার সালামপুর গ্রামের ভ্যানচালক হারুন মণ্ডলের ছেলে। বাগাতিপাড়ার তকিনগর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কারিগরি শাখার এসএসসি পরীক্ষার্থী।

তমাল জানায়, শুক্রবার সকালে লালপুরের সালামপুর থেকে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাগাতিপাড়ার দয়ারামপুর বাজারে যায় সে। পরে দুই ব্যক্তি বেশি ভাড়া দেওয়ার কথা বলে তাকে নাটোর শহরে নিয়ে যান।

দুপুরে নিচাবাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর একজন ভ্যান থেকে নেমে হারপিক কেনার কথা বলে বাজারের ভেতরে যান। এরপর ভ্যানে থাকা অপর ব্যক্তি তমালকে হারপিক নিয়ে আসতে বলেন। বাজারের ভেতরে গিয়ে প্রথম ব্যক্তিকে না পেয়ে তমাল ভ্যানের কাছে ফিরে আসে। ততক্ষণে ভ্যানসহ অপর ব্যক্তিও উধাও।

দুপুরে নিচাবাজার এলাকায় পৌঁছানোর পর একজন ভ্যান থেকে নেমে পণ্য কেনার কথা বলে বাজারের ভেতরে যান। এরপর ভ্যানে থাকা অপর ব্যক্তি তমালকে ওই পণ্য নিয়ে আসতে বলেন। বাজারের ভেতরে গিয়ে প্রথম ব্যক্তিকে না পেয়ে তমাল অটোভ্যানের কাছে ফিরে আসে। ততক্ষণে ভ্যানসহ অপর ব্যক্তিও উধাও। স্থানীয়দের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও ভ্যানটির সন্ধান না পেয়ে সে থানায় অভিযোগ দেয়।

ভ্যানের এক যাত্রীকে ভ্যানটি চালিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নাটোর শহরের নিচাবাজার এলাকায়

তমালের ভাষ্য, সে বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা বাজারে একটি জ্বালানি তেলের দোকানে কাজ করত। রোজগারের কিছু টাকা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মোট ৬৫ হাজার টাকায় সে প্রায় আড়াই মাস আগে অটোভ্যানটি কেনে। এখন ভ্যানটি ফিরে না পেলে কীভাবে ঋণ শোধ করবে ও পড়ার খরচ চালাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে সে।

এ বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’