মোহাম্মদ ফা‌হিম চৌধুরী
মোহাম্মদ ফা‌হিম চৌধুরী

শেরপুর-২ আসন

বাবা জাহেদ আলী চৌধুরীর পথ ধরে সংসদ সদস্য ছেলে ফাহিম চৌধুরী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (নকলা–নালিতাবাড়ী) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক হুইপ এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে।

নির্বাচনে ফাহিম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৫৮২ ভোট। এলাকাবাসী ও বিএনপির সমর্থকদের ভাষ্য, বাবার রাজনৈতিক নেতৃত্ব, অর্জন ও পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় বিজয় এনে দিয়েছে ফাহিম চৌধুরীকে। তাঁর এ জয় এলাকায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

এলাকাকে মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিমুক্ত করা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার। আমি কথা দিয়েছি—সেই কথা রাখাই এখন আমার প্রথম দায়িত্ব।
মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, সংসদ সদস্য, শেরপুর-২

নকলা এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, ‘জাহেদ আলী চৌধুরী দীর্ঘদিন এলাকার রাজনৈতিক অভিভাবক ছিলেন। তাঁর পরিবারের ওপর আমাদের আস্থা আছে, ফাহিম চৌধুরীর জয় সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন।’ নালিতাবাড়ীর বাসিন্দা রেজাউল হক বলেন, এই জয় শুধু ফাহিম চৌধুরীর বাবার পরিচয়ের ওপর নয়; তাঁর সহজ-সরল কথা বলা, বক্তৃতা ও সময়োপযোগী প্রতিশ্রুতিই এ বিজয় নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, প্রচারণায় তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ত করা, দুই উপজেলায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মূল, অবকাঠামো উন্নয়ন, নাকুগাঁও স্থলবন্দর গতিশীল করা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, মানুষ–হাতির সহাবস্থান এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

ফাহিম চৌধুরীর বাবা জাহেদ আলী চৌধুরীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু ১৯৭৮ সালে, যখন তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন এবং ২০০১ সালে মতিয়া চৌধুরীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ নিযুক্ত হন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি মারা যান।

বাবার মৃত্যুর পর নকলা–নালিতাবাড়ীতে ফাহিম চৌধুরী রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এ সময় দলে বিভক্তি সৃষ্টি হয়। কিছুদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন ফাহিম চৌধুরী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পেলে দলীয় বিভক্তির অবসান ঘটে এবং সংগঠিত প্রচারণা চালান।

ফল ঘোষণার পর এলাকায় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তবে কর্মী-সমর্থকদের মতে, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘ মেয়াদে জন–আস্থা ধরে রাখা।

নালিতাবাড়ী শহরের তারাগঞ্জ মধ্যবাজারের বাসিন্দা কামরুন নাহার বেগম বলেন, ‘আমরা তরুণ ও দক্ষ নেতা চাই। ফাহিম চৌধুরী নিজের কাজের মাধ্যমেই আস্থা অর্জন করবেন, এমনটাই সাধারণ ভোটাররা আশা করছি।’

ফাহিম চৌধুরী প্রথম আলো‌কে জানান, তাঁর জয়ের পেছনে বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও উন্নয়নমূলক কাজ বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘এলাকাকে মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিমুক্ত করা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার। আমি কথা দিয়েছি—সেই কথা রাখাই এখন আমার প্রথম দায়িত্ব।’