নারায়ণগঞ্জে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সচেনতামূলক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। বৃহস্পতিবার সকালে সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সম্মেলনকক্ষে
নারায়ণগঞ্জে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সচেনতামূলক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। বৃহস্পতিবার সকালে সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সম্মেলনকক্ষে

নারায়ণগঞ্জে সচেতনতা কর্মসূচি

প্লাস্টিকমুক্ত শহর গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

এক সময়ের স্বচ্ছ পানির শীতলক্ষ্যা এখন দুর্গন্ধময়। প্লাস্টিক বর্জ্যে নদী এখন মুমূর্ষু। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। আগামীর প্রজন্মের জন্য প্লাস্টিকমুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সম্মেলনকক্ষে প্লাস্টিক বর্জ্য সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘পিপলস অ্যাডাপটেশন প্ল্যানস ফর ইনক্লুসিভ, ক্লাইমেট-রেসিলিয়েন্ট আরবান সার্ভিস ডেলিভারি’ প্রকল্পের আওতায় দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী দিনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘৩০-৩৫ বছর আগেও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি স্বচ্ছ ছিল। মানুষ সেই পানি পান করত। অথচ আজ সেই নদী পার হতে হয় নাক চেপে। প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। আগামী প্রজন্ম যেন আমাদের অভিশাপ না দেয়, সে জন্য এখনই প্লাস্টিকমুক্ত শহর গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনত প্লাস্টিকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, ‘প্লাস্টিক আমাদের জীবনযাত্রার এত গভীরে ঢুকে গেছে যে এখন মানুষের ভ্রূণ, এমনকি মস্তিষ্কেও মাইক্রো প্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্লাস্টিক শুধু বর্জ্য হিসেবে দেখলে হবে না, একে সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।’ তিনি জানান, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন বর্তমানে প্লাস্টিক রিসাইকেল করে পাইরোলাইসিস তেল ও বিভিন্ন পণ্য তৈরির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করছে।

বুধবার শিক্ষার্থীদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আগ্রহী করতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন পার্কে রচনা, চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পার্কের পরিবেশ রক্ষায় চারটি বর্জ্য বিন দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেনের সভাপতিত্বে নগর পরিকল্পনাবিদ মইনুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন প্রতিযোগিতার বিচারক জয় কে রায় চৌধুরী প্রমুখ।