বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে মোছা. রুকসানা খাতুন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামে
বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে মোছা. রুকসানা খাতুন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামে

কলেজে ভর্তি হয়েও জিপিএ–৫ পাওয়া রাজশাহীর রুকসানার পড়াশোনা অনিশ্চিত

এসএসসি পরীক্ষার পর রাজশাহী শহরের একটি কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যে মেয়েটির চোখে স্বপ্নের আলো জ্বলে উঠেছিল, সেই আলো এখন ক্রমেই ম্লান হয়ে আসছে। অর্থের অভাবে তার বই কেনা হয়নি, শহরে থাকার মেসও ঠিক হয়নি। বাড়ি থেকে প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করাও সম্ভব নয়। এর মধ্যে আড়াই বছর ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত তার মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও টাকার অভাবে সেটি হয়নি।

রুকসানার পরিবার খুবই দীন। বসবাস করার মতো ভালো ঘরও নেই। স্কুলে থাকাকালীন তার কোনো বেতন নেওয়া হয়নি। এসএসসির ফরম পূরণের সময়ও তাকে সাহায্য করেছি।
মতিউর রহমান, প্রধান শিক্ষক, ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সিংড়া গ্রামের মেয়ে মোছা. রুকসানা খাতুন। মা রাফিয়া বিবি। বাবা মো. নূর মোহাম্মদ দিনমজুর। পাশের এলাকার ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে রুকসানা। পরে সে রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি হয়।

কলেজে ভর্তিতে সহায়তা করেছিলেন এক কর্মকর্তা

দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রুকসানার স্বপ্ন, একদিন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারের হাল ধরবে। অনেক কষ্টে এসএসসিতে ভালো ফল করলেও কলেজে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে পারেনি। অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় তার পরিবার। খবর পেয়ে এগিয়ে আসেন পুঠিয়া উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবুদাস। তাঁর সহযোগিতায় রাজশাহী সিটি কলেজে ভর্তি হয় রুকসানা। সেই কর্মকর্তা এখন বদলি হয়ে গেছেন।

কিন্তু কলেজে ভর্তিই শেষ কথা নয়। রাজশাহী শহরে থেকে পড়তে হলে লাগবে থাকা-খাওয়া, বই-খাতা ও যাতায়াতের খরচ। সেই টাকা কোথা থেকে আসবে, জানে না রুকসানা।

কলেজে ভর্তিই শেষ কথা নয়। রাজশাহী শহরে থেকে পড়তে হলে লাগবে থাকা-খাওয়া, বই-খাতা ও যাতায়াতের খরচ। সেই টাকা কোথা থেকে আসবে, জানে না রুকসানা।

রুকসানার মা রাফিয়া বিবির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। ১৮ অক্টোবর তাঁকে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর চিকিৎসকেরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। অর্থের অভাবে সেখানে নেওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার টাকাও নেই। ফলে তার মাকে বাড়িতে এনে রাখতে বাধ্য হয়েছেন বাবা নূর মোহাম্মদ। একদিকে মায়ের চিকিৎসা, অন্যদিকে রুকসানার লেখাপড়া—দুটোই আটকে আছে অর্থাভাবে।

অসুস্থ মায়ের পাশে বসে আছে রুকসানা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পুঠিয়ার সিংড়া গ্রামে

‘যেভাবেই হোক পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই’

রুকসানা প্রথম আলোকে বলে, ‘আমার তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তাঁদেরও আর্থিক অবস্থা ভালো না। কোনো সহায়তা করতে পারেন না। কিন্তু যেভাবেই হোক আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই।’

ধোপাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রুকসানার পরিবার খুবই দীন। বসবাস করার মতো ভালো ঘরও নেই। স্কুলে থাকাকালীন তার কোনো বেতন নেওয়া হয়নি। এসএসসির ফরম পূরণের সময়ও তাকে সাহায্য করেছি।’ বিত্তবান কেউ এগিয়ে এলে মেয়েটি অনেক দূর যেতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।