
গণভোটের আগে জুলাই সনদে প্রস্তাবিত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদার) আলী রিয়াজ।
আজ রোববার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের প্রচার–বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় আলী রীয়াজ এ মন্তব্য করেন। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
গণভোটের প্রচার–বিষয়ক সরকারের গঠিত কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ। অনুষ্ঠানে গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে তুরস্কের এরদোয়ানের শাসনের অধীন সংবিধানের ১৮টি বিষয় নিয়ে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ১৮টি বিষয়ের মধ্যে ছিল নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ব্যক্তিকরণ, আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস, বিচার বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একেবারে মৌলিক বিষগুলো নিয়ে ১৮টি প্রশ্ন করে ওপরে লিখে দেওয়া হয়, এখানে যে ১৮টি বিষয় আছে, এর মধ্যে আপনি “হ্যাঁ” বা “না” দেবেন।’
এ সময় আসন্ন গণভোটের চারটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে আলী রিয়াজ বলেন, ‘এখন কেউ কেউ বলে, “আপনারা যে চারটা বিষয় দিয়েছেন, আমি তো তিনটাতে একমত, চতুর্থ বিষয়ে একমত নই। এ জন্য আমি কী করব?” আমার তাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করুন দুভাবে। একটা হচ্ছে সংবিধান, আরেকটা কম্পোজিট ডকুমেন্ট। ছোটখাটো বিষয়ে আপনি একটা–দুটো অনুচ্ছেদ বদল করতে পারবেন। কিন্তু আমরা যেটার কথা বলছি, বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ৫৪ বছরে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আমরা প্রবেশ করেছিলাম, বিশেষ করে ১৬ বছরে সেটা থেকে বেরিয়ে আসার পথ হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি করা। সেটা করতে আপনাকে সংবিধানের বড় রকমের সংস্কার করতে হবে। সেটার তো বিকল্প নেই। এটা একটা কম্পোজিট ডকুমেন্ট হিসেবে হবে। যদি কম্পোজিট ডকুমেন্ট হিসেবে হয়, তাহলে দেখবেন, একটা পরস্পর সংশ্লিষ্ট বলেই চারটা বিষয়ের সত্য আপনাকে ওই তিনটা বিষয়ে আমি এক নম্বর, একটা দ্বিমতে তো এই প্রশ্নটা করতে চাইবে না।’
গণভোটের আগে জুলাই সনদ নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, ‘বিভিন্ন রকমের অপপ্রচার হচ্ছে, অপপ্রচারের তো শেষ নেই। একদিন হঠাৎ দেখলাম, জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে “বিসমিল্লাহ” তুলে দেওয়া হচ্ছে—একজন ব্যক্তি এটা বলছে।...ওইটা দেখে (বিসমিল্লাহ তুলে দেওয়া বক্তব্য) আমি বললাম, কোথা থেকে আসতেছে (অপপ্রচার) এসব। এটা কোথা থেকে একটা লোকের মাথার মধ্যে আসতে পারে যে জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ তুলে দেওয়া হবে? এটা কোথাও নাই। ৩৯ পৃষ্ঠার একটি ডকুমেন্ট জুলাই সনদ। একটা পৃষ্ঠা নয়, বাকি ৩৮ পৃষ্ঠার কোথাও নাই এটা।’
আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘তার পরদিন আবার শুনলাম আরেক কথা। বলে, জুলাই সনদে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা হচ্ছে? দেখেন কাণ্ড! বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে এখন একটা নতুন কিছু করা হচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সময় এ বিষয়ে কয়েকটি দলের ভিন্নমত সত্য। এ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি অংশে কী থাকবে দেখুন। বলা হয়েছে, সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি উল্লেখ থাকবে। আপনারা যাঁরা তরুণ শিক্ষার্থী, আপনারা তো না–ও জানতে পারেন। তবে আমি আশা করি, আপনারা জানেন।’
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য সাইদুর রহমান, শাবিপ্রবির উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজাম উদ্দিন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল লতিফ, লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য তাজ উদ্দীন, নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য মোহাম্মদ ইকবাল, শাবিপ্রবির সহ–উপাচার্য সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।