চট্টগ্রামের নবগঠিত উপজেলা ফটিকছড়ি উত্তরের সদর দপ্তরের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন নিয়ে ৩ ইউনিয়নে ৪৮ ঘণ্টা হরতাল কর্মসূচি চলছে। আজ সোমবার কর্মসূচির শেষ দিনেও এলাকার কোনো সড়কে চলেনি যানবাহন। তবে গতকাল রোববার হরতালের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ হলেও আজ তা হয়নি।
আন্দোলনকারী ব্যক্তিদের দাবি, সরকার ঘোষিত বর্তমান স্থান পশ্চিম ভূজপুর মৌজাটি উপজেলার একবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এর ফলে সুদূর সীমান্তসংলগ্ন বাগানবাজার বা হেঁয়াকো থেকে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে, যা চরম ভোগান্তি তৈরি করবে। তাঁরা সর্ব উত্তরের এই তিন ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত–সুবিধার কথা বিবেচনা করে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থানান্তরের জোর দাবি জানান হরতাল কর্মসূচি থেকে।
আজ সকাল থেকে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ করেছেন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের কর্মীরা। বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেঁয়াকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীরা হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ করেন। তবে কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটকের মতো ঘটনা ঘটেনি।
হরতালের কারণে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি (ফটিকছড়ি অংশ) আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সকাল থেকে নারায়ণহাট ইউনিয়ন, দাঁতমারা ইউনিয়ন, শান্তিরহাট, হেঁয়াকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার ইউনিয়ন এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা ছিল।
হরতালের কারণে ফেনী-খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ফেলাগাজি দিঘি-হেঁয়াকো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
জানতে চাইলে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে প্রথম আলোকে বলেন, তিন ইউনিয়ন দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও বাগানবাজারের বিভিন্ন সড়কে হরতালের সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেছেন। তবে হরতালবিরোধী সমাবেশ আজ হয়নি। পরিস্থিতি সামলাতে জেলা থেকে অর্ধশত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।