
পরিবারের অভাব ঘোচাতে প্রায় ১০ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন আরিফ ইসলাম। দেশে ফিরে বিয়ে করবেন, এমন পরিকল্পনা নিয়েই তিন মাসের ছুটিতে ফিরছিলেন তিনি। তাঁকে আনতে গতকাল সোমবার রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
কিন্তু বাড়িতে ফেরার পথেই ঘটে দুর্ঘটনা। এতে আরিফ ইসলাম, তাঁর মা, বোন, ভাইসহ একই পরিবারের চারজন এবং তাঁদের প্রাইভেট কারের চালক নিহত হন। তবে গাড়িতে থাকা দুটি শিশু প্রাণে বেঁচে গেছে।
গতকাল রাত পৌনে চারটার দিকে ঢাকা–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম ফ্লাইওভারের আগে গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই বিকল ট্রাকের পেছনে তাঁদের বহনকারী প্রাইভেট কারটি ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বেগম, মেয়ে আয়শা খাতুন, মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছেলে মো. আরিফ ইসলাম এবং প্রাইভেট কারের চালক যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের জাহিদ হোসেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন শহিদুল ইসলামের ছোট ছেলে রাকিবুল ইসলাম, নিহত মেয়ে আয়শা খাতুনের সাত বছর বয়সী ছেলে আশরাফুল হুসাইন ও তিন বছর বয়সী মেয়ে তাসফিয়া খাতুন। তাঁদের প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আজ মঙ্গলবার সকালে রাকিবুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে একই পরিবারের মা, মেয়ে, দুই ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু হলো। দুই শিশু বর্তমানে শঙ্কামুক্ত আছে।
মুঠোফোনে কথা হয় দুর্ঘটনায় নিহত আয়শা খাতুনের স্বামী ইলিয়াস সরদারের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভাব ঘোঁচাতে প্রায় ১০ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন আরিফ। ধারদেনা পরিশোধ করা ও বাড়িঘরের কাজ শেষে কিছু সমস্যার কারণে এত দিন তাঁর দেশে ফেরা হয়নি। এখন দেশে ফিরে বিয়ে করবেন বলে পুরো আয়োজন চলছিল। বিয়ের প্রস্তুতি হিসেবে তিন মাসের ছুটিতে দেশে ফিরছিলেন। দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরছের বলে আরিফকে আনতে ভাড়া করা প্রাইভেট কার নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান শাশুড়ি, আমার স্ত্রী, শ্যালক ও আমার দুই শিশুসন্তান। প্রাইভেট কারে জায়গা না হওয়ায় আমরা কেউ সঙ্গে যেতে পারিনি।’
ইলিয়াস সরদার বলেন, ‘আমার শ্বশুর শহিদুল ইসলাম ইজিবাইক চালান। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ের সংসারে শ্বশুর ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। আমার স্ত্রী ছিল তিন ভাইবোনের মধ্যে বড়। শ্যালক এত দিন পর দেশে ফিরছে বলে পরিবারের মধ্যে আনন্দ বয়ে যাচ্ছিল। ধুমধাম করে বিয়ে দেবেন বলে সব আয়োজন চলছিল। কিন্তু তাঁকে আনতে গিয়ে পথেই সব শেষ হয়ে গেল।’
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে নিহত চারজনের লাশের সুরতহাল শেষে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত আরেকজনের লাশ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে।