চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে লামিয়া আক্তার (৪) নামের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। নিহত লামিয়া আক্তার ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বার আউলিয়া দরগার পশ্চিম পাশে ভূঁইয়া বাড়ির মো. ইমাম হোসেন ইমনের মেয়ে। এ নিয়ে উপজেলায় গত ১৬ দিনে পাঁচজনের মৃত্যু হলো।
লামিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শোভন ভৌমিক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি জেনেছেন, লামিয়া নামের এক শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে তাঁর ইউনিয়নে তিনজনের মৃত্যু হলো।
লামিয়ার এক আত্মীয় মো. জিসান জানান, চার দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল লামিয়া। আজ স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরে তাকে দ্রুত ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে তার মৃত্যু হয়।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা শোভন ভৌমিক বলেন, গত সপ্তাহ থেকে তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেন। আজও তাঁরা ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধন কার্যক্রম করেছেন। মানুষ সচেতন না হলে কোনোভাবেই ডেঙ্গু নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই আগামীকাল শুক্রবার মসজিদে মসজিদে ডেঙ্গুবিষয়ক সচেতনতা প্রচারণা চালানো হবে। শনিবার ক্র্যাশ প্রোগ্রাম করবেন তাঁরা।
এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মো. মোজাহিদুল ইসলাম নামে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর এক সপ্তাহ পর ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের তুলাতলি গ্রামে মো. রাফসান (২৪) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়। এর এক দিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড পৌরসভার আমিরাবাদ এলাকার পাঁচ বছর বয়সী শিশু সিরাজুম মুনিরা নামের এক শিশু মারা যায়। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার কোরবান আলী রিফাত (১৭) সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কাজলীপাড়া এলাকার এক কিশোরের মৃত্যু হয়।