মেঘনায় ধরা পড়ে এই কাতলা। আজ শনিবার ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা চরডারমাথা মাছঘাটে
মেঘনায় ধরা পড়ে এই কাতলা। আজ শনিবার ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা চরডারমাথা মাছঘাটে

মেঘনায় ধরা পড়ল সাড়ে ১৭ কেজির কাতলা

ভোলার মেঘনায় আজ শনিবার ধরা পড়েছে ১৭ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজনের একটি বিশাল কাতলা। পরে নিলামে মাছটি বিক্রি হয় ১৭ হাজার ৫০০ টাকায়।

আজ ভোরে মেহেন্দীগঞ্জ এলাকার জেলে হানিফ মাঝি মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে জাল টানতেই ধরা পড়ে বিশাল আকৃতির ওই কাতলা। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তিনি মাছটি নিয়ে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা চরডারমাথা মাছঘাটে পৌঁছান। সেখানে নিলামে তোলা হলে ঘাটের আড়তদার প্রতিষ্ঠান ‘জামাল কোম্পানি’র মো. জামালউদ্দিন মাছটি কিনে নেন। পরে সেটি ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

জেলে হানিফ মাঝি বলেন, ভোরে জাল তোলার পর একটি বড় কাতলা, কয়েকটি পোয়া ও ছোট আকারের কিছু ইলিশ ধরা পড়ে। সব মাছ আড়তে বিক্রি করে প্রায় ২১ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে শুধু কাতলাটির দামই ওঠে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। বাকি অর্থ আসে অল্প কিছু ইলিশ ও অন্য মাছ বিক্রি করে।

ইলিশা মাছঘাটের ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেন, এত বড় কাতলা এখন আর সচরাচর দেখা যায় না। তাই মাছটি ঘাটে আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। নিলামে একের পর এক দাম বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি বিক্রি হয়।

ভোলা জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ওই কাতলার বয়স আনুমানিক ৭ থেকে ৯ বছর হতে পারে। একসময় দেশের বিভিন্ন নদীতে নিয়মিত বড় রুই-কাতলা পাওয়া যেত। এখন সেই দৃশ্য আগের মতো নেই। তবে প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ, উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আবার বড় আকারের দেশীয় মাছের সংখ্যা বাড়তে পারে।

মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার বলেন, ইলিশের আকালের সময়ে মেঘনার বুকে ধরা পড়া এই বিশাল কাতলা শুধু একটি বড় মাছ নয়; মাছ না পাওয়া জেলে পরিবারের মুখে একটুকরা আনন্দ।