কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাইরে সেনাবাহিনীর টহল। গতকাল বিকালে
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাইরে সেনাবাহিনীর টহল। গতকাল বিকালে

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে কঠোর নজরদারি, সড়কে তল্লাশি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সড়কে তল্লাশির পাশাপাশি শিবিরগুলোতে চলছে কঠোর নজরদারি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে একাধিক তল্লাশিচৌকি বসিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা রোহিঙ্গাদের তল্লাশি করছেন। শিবিরের বাইরে টেকনাফ সড়কে সেনাবাহিনীর টহল দেখা গেছে। এই আশ্রয়শিবিরে ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার বসতি। আশপাশের মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, বালুখালীসহ আরও ২৩টি শিবিরে বসবাস করছেন অন্তত ৯ লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে আশ্রয় শিবিরগুলোতে কড়া নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গা যেন ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে যেতে না পারে, তার জন্য বিশেষ তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা গন্ডগোল সৃষ্টির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিবিরেও অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ইতিমধ্যে ৪৬টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ৫৯ জন পলাতক আসামিসহ ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করা ১ হাজার ১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৬টি অবৈধ অস্ত্র, ১৪টি গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজারে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সড়কে যানবাহনে তল্লাশি করছেন বিজিবির সদস্যদের। গতকাল বিকালে

আজ বুধবার সকাল থেকে শহরের প্রধান সড়ক, বাইপাস সড়ক, সৈকত সড়কে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি টহল চোখে পড়েছে। বিজিবি কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় ২৯ জানুয়ারি থেকে মাঠে নেমেছেন ১১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। বিজিবি সদস্যরা সড়কে টহল তৎপরতার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন লোকজনকে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি জেলার সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল, মহেশখালী পৌরসভা, বড় মহেশখালী, ঈদগাঁও, চকরিয়া ও পেকুয়া এবং উখিয়ার কয়েকটি এলাকায় ছয় লাখের বেশি সংখ্যালঘু ভোটারের বসবাস। জেলা প্রশাসক মো. আ মান্নান বলেন, রামুর বৌদ্ধবিহারসহ খুরুশকুল ও বিভিন্ন এলাকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি আছে। শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র যেখানে বেশি

কক্সবাজারের পেকুয়ার একটি ভোটকেন্দ্রে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনী সহিংসতায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় মো. আবদুল্লাহ (২২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও পেকুয়ার কয়েকটি কেন্দ্রে গোলযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এবারও গোলযোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পেকুয়ার ৪৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে চকরিয়ার ১৩০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি ঝুঁকিপূর্ণ।

সাগরদ্বীপ মহেশখালী-কুতুবদিয়া নিয়ে কক্সবাজার-২ আসন। ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ইউপি নির্বাচনে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের জামেউস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এই কেন্দ্রে ভোটারসংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। মহেশখালীতে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৮৬টি, এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৪৭টি। অন্যদিকে কুতুবদিয়ায় ভোটকেন্দ্র ৩৮টি, এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩২টি।