
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে একটি নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা ১৪ লাখ ইয়াবার চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির দাবি, একক অভিযানে জব্দ করা এটিই সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালান। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নাফ নদীসংলগ্ন স্লুইসগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবার চালানটি জব্দ করা হয়। জব্দ ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হ্নীলা ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া এলাকার গোপাল দাসের ছেলে জয়গর দাস (৪০) এবং ফুলের ডেইল এলাকার মো. শফির ছেলে মো. হোসেন।
আজ বিকেল পাঁচটার দিকে উখিয়ার ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী পেরিয়ে ইয়াবার বড় একটি চালান বাংলাদেশে আনার খবর আগে থেকেই পেয়েছিল বিজিবি। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়।
বিজিবি অধিনায়ক বলেন, সাধারণত পাচারকারীরা রাতের বেলায় ইয়াবার চালান আনার চেষ্টা করেন। তবে এবার দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে একটি নৌকায় করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান আনা হয়। নৌকাটি হ্নীলা ইউনিয়নের স্লুইসগেট এলাকায় এলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া বিজিবির বিশেষ টহল দল সেটিকে থামার সংকেত দেয়। এ সময় নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করে।
পরে নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তবে নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানিতে ভাসমান কয়েকটি বস্তা দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। বস্তাগুলো উদ্ধার করে খুললে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ইয়াবা পাওয়া যায়। ১৪০টি কার্টনে এসব ইয়াবা ছিল বলে বিজিবি জানিয়েছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৪ বিজিবির সদস্যরা পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৪৩ লাখ ইয়াবা জব্দ এবং ২৪৩ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছেন। এর মধ্যে আজকের ১৪ লাখ ইয়াবার চালানটি সবচেয়ে বড়।
গ্রেপ্তার দুজনকে বিকেলে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করে মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক চোরাচালান বন্ধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্তে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবল বাড়ানোর মাধ্যমে নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। মাদকের পাশাপাশি জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও সার চোরাচালান রোধেও অভিযান চলছে।