
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে অবিলম্বে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু, প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ক্লাস (হাতে-কলমে শিক্ষা) নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ সোমবারও বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা।
এসব দাবিতে গতকাল রোববার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। আজ সকালে ক্লাস বর্জন করে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কলেজ-সংলগ্ন সুনামগঞ্জ–সিলেট সড়কের মদনপুর মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানান স্থানীয় লোকজন। তাঁরা অবিলম্বে হাসপাতাল চালুর দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন পঞ্চম বর্ষের আবদুল্লাহ নোমান ও ইসরাত জাহান, চতুর্থ বর্ষের তামিমা হোসেন, তৃতীয় বর্ষের শাহপরান ভুঁইয়া এবং দ্বিতীয় বর্ষের হারুনুর রশীদ ও ফারজানা আহমদ।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতালের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। কিন্তু এক বছর ধরে হাসপাতাল চালু হচ্ছে না। এতে তাঁরা হাতে-কলমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি এলাকার মানুষও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তাঁদের ভাষ্য, সবকিছু প্রস্তুত থাকলেও হাসপাতাল চালু করতে গড়িমসি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে পারছেন না।
আজকের কর্মসূচি থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ, সপ্তাহে ছয় দিন ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করা, ওয়ার্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ, ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং সার্জারি, মেডিসিনসহ সব ক্লিনিক্যাল বিষয়ের জন্য যথাযথ ওয়ার্ডব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, এসব দাবি নিয়ে এর আগে তাঁরা বারবার কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। মন্ত্রণালয়েও লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি।
কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক আহমেদ ভুঁইয়া বলেন, ‘যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এখন প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। সেটিও প্রক্রিয়াধীন।’
২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় দুই বছর পর ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। স্থায়ী ক্যাম্পাসটি জেলা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায় সুনামগঞ্জ–সিলেট সড়কের পাশে অবস্থিত।