শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার সকাল থেকে তাঁরা আইনজীবী সমিতি ভবন ঘিরে রাখেন
শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার সকাল থেকে তাঁরা আইনজীবী সমিতি ভবন ঘিরে রাখেন

শরীয়তপুরে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা, আইনজীবীকে লাঞ্ছনার অভিযোগ

শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা ও প্রবীণ এক আইনজীবীকে লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি মোসলেম উদ্দিন খান। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মনোনীত প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী করার জন্য এমন কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে আইনজীবীদের একটি অংশের অভিযোগ।

এ ছাড়া আইনজীবী মুরাদ হোসেনকে তাঁর চেম্বারে প্রবেশ করে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার রুবায়েত আনোয়ারের বিরুদ্ধে।

জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, ২ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করে আইনজীবী সমিতির নির্ধারিত নির্বাচন কমিশন। ২৫ এপ্রিল ভোট গ্রহণ। রোববার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচতলায় হলরুমে বেলা ১১টা থেকে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়। হলরুমের দরজার সামনে অবস্থান নেন বিএনপি–সমর্থিত আইনজীবীরা। আর আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা–কর্মীরা। বেলা সোয়া একটার দিকে বিএনপির সমর্থকদের বাধা উপেক্ষা করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে যান জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি মোসলেম উদ্দিন খান। তিনি বর্তমানে এনসিপির জেলা পর্যায়ের নেতা। মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য হলরুমের দরজার সামনে গেলে তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে তাঁকে লাঞ্ছিত করে সেখান থেকে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়।

মোসলেম উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি একজন প্রবীণ আইনজীবী। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলাম। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে প্রথমে আমাকে বাধা দেওয়া হয়। কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে—এমন জিজ্ঞাসা করলে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বিএনপির সমর্থকেরা। আমি এক সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম, তাদের এমন অপরাজনীতির কারণে কয়েক মাস আগে বিএনপি ছেড়ে দিয়েছি। এখন এনসিপির রাজনীতি করি। এ কারণে আমাকে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আইনজীবীদের সংগঠন ইসলামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুরাদ হোসেন সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁর চেম্বারে বসে। বেলা ১১টার দিকে চেম্বারে প্রবেশ করে নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মুরাদ হোসেন অভিযোগ করেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমি আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছি। আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছি। এমন আচরণের মুখে কখনো পড়িনি। একজন আইনজীবী এবং তিনি নির্বাচনের সম্মানিত কমিশনার সে এভাবে চেম্বারের ভেতরে প্রবেশ করে আমাকে মারধর করবে, এটা কখনো কল্পনা করিনি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবায়েত আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়। আমি মনোনয়নপত্র বিক্রির জন্য হলরুমে অবস্থান করছিলাম। কোনো আইনজীবীর কক্ষে প্রবেশ করিনি। কেন তিনি এমন অভিযোগ তুলেছেন তা বলতে পারছি না।’

২ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করে আইনজীবী সমিতির নির্ধারিত নির্বাচন কমিশন। ২৫ এপ্রিল ভোট গ্রহণ। রোববার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল।

আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫টি পদ। এসব পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ১৫টি পদের বিপরীতে বিএনপির সমর্থিত আইনজীবীদের বাইরে অন্য কাউকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গণ–অধিকার পরিষদ ও এনসিপির নেতা এবং আইনজীবীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় বিএনপির কয়েকজন জেলা পর্যায়ে নেতার কাছে। তাঁরা কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে জেলা পর্যায়ের এক শীর্ষ নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘যা ঘটেছে তা এড়িয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আইনজীবীরা যদি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে না আসেন, তাহলে তাঁদের ডেকে এনে তো নির্বাচন করতে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব নয়।’

আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছি। যাঁরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এসেছিলেন, প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে সমিতির ভেতরে কাউকে বাধা দেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য আমার কাছে নেই। বাইরে কী ঘটেছে, তা আমি বলতে পারব না।’

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়েছে—এমন তথ্য তাঁদের কাছে নেই। সকাল থেকে আইনজীবী সমিতি ও আদালত চত্বরে পুলিশ মোতায়েন ছিল। কেউ কোনো লিখিত অভিযোগও পুলিশের কাছে করেনি।