বান্দরবান

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ১০টি ভাষায় বিএনপির ৩১ দফা, চলছে প্রচার

মারমা ভাষায় লেখা প্রচারপত্রে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে
ছবি: প্রথম আলো

বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি প্রচারপত্র আকারে ছাপানো হয়েছে পাহাড়ের ১০টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষায়। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এ ধরনের প্রায় ৮০ হাজার প্রচারপত্র বান্দরবানে বিলির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার নেতারা।

জেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বাঙালি ছাড়াও বান্দরবানে ১১টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। এসব জাতিগোষ্ঠী হলো মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, চাকমা, চাক, খেয়াং, পাংখোয়া, লুসাই ও খুমি। এসব জাতিগোষ্ঠীর অনেকেই বাংলা ভালোভাবে বোঝেন না, লিখতে ও পড়তে পারেন না।

বান্দরবানের বিএনপি নেতারা জানান, বাংলা লিখতে ও পড়তে অক্ষমদের কথা বিবেচনা করে ১০টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় বিএনপির ৩১ দফার প্রচারপত্র ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বান্দরবান আসনের বিএনপি প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরী এই উদ্যোগ নেন। সংশ্লিষ্ট ভাষায় অভিজ্ঞদের সহায়তায় এসব প্রচারপত্র তৈরি করা হয়েছে।

প্রচারপত্র তৈরির বিষয়টি সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য অংজাই উই চাক। তিনি বলেন, ১১টি ভাষার মধ্যে এ পর্যন্ত ১০টি ভাষায় ৮০ হাজার কপি প্রচারপত্র ছাপা ও বিতরণ হয়েছে। প্রচারপত্র ছাপানো ও বিতরণের কার্যক্রম এখনো চলমান।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর চারটি ভাষায় বিএনপির প্রচারপত্র

অংজাই উই চাক জানান, জেলায় মারমার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, প্রায় সাড়ে ৮০ হাজারের মতো। তাঁদের জন্য এরই মধ্যে প্রচারপত্র ছাপানো হয়েছে ৫০ হাজার। জেলার ৫১ হাজার ম্রো জনসংখ্যার জন্য ১০ হাজার, সাড়ে ২২ হাজার ত্রিপুরার জন্য ৮ হাজার, ১৩ হাজার বমের জন ৪ হাজার প্রচারপত্র ছাপানো হয়েছে। এ ছাড়া চাক, খেয়াং ও তঞ্চঙ্গ্যার জন্য ৪ হাজার এবং খুমি, লুসাই ও পাংখোয়ার জন্য ২ হাজার প্রচারপত্র ছাপানো হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিতরণের পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় এসব প্রচারপত্র পাঠানো হচ্ছে। চাকমা ভাষায় অনুবাদের জন্য বান্দরবানে কাউকে না পাওয়ায় এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে রাঙামাটি আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী দীপেন দেওয়ানকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বান্দরবান আসনে জনসংখ্যা ৪ লাখ ৮১ হাজার ১০৯ জন। এর মধ্যে ভোটার ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। জেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮৬টি। মোট ভোটারের মধ্যে পাহাড়ি ভোটার প্রায় ৪১ শতাংশ।

জানতে চাইলে বান্দরবান আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরী বলেন, পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় ৩১ দফা প্রচারের ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি বাড়বে। তিনি বলেন, মারমা ভাষায় প্রকাশিত কিছু প্রচারপত্র খাগড়াছড়িতেও পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।