ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি আসনেই জয় পেয়েছে ১১–দলীয় জামায়াতে ইসলামী জোট। বৃহস্পতিবার রাতে সব কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করেন। জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াতে ইসলামী ও একটিতে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিজয়ী হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রের ভোটের সঙ্গে প্রথমবার চালু হওয়া পোস্টাল ব্যালটের ভোট যুক্ত করে ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে বিজয়ী প্রার্থীদের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ–উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে।
কুড়িগ্রাম–১ (নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনে ২৩১টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭৮ জন। ঘোষিত বেসরকারি ফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুর রহমান রানা (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ২৫ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ৬৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
কুড়িগ্রাম–২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনে ২০৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৬ লাখ ৪ হাজার ৭৩৬। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আতিকুর রহমান (শাপলা কলি) পেয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৫২৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৪০৫ ভোট। ভোটের হার ৬৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
কুড়িগ্রাম–৩ (উলিপুর) আসনে ১৪০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ জন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩০ ভোট। বিএনপির তাসভীর উল ইসলাম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫২ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ৬১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
কুড়িগ্রাম–৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর) আসনে ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আজিজুর রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৩ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ৬২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
কুড়িগ্রাম–৪ আসনের বিজয়ী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনগণ উন্নয়ন ও নীতির পক্ষে ভোট দিয়ে তাঁদের রায় দিয়েছেন। এখন আমি সবার প্রতিনিধি হয়ে সেবা করতে চাই। দল–মতনির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব।’
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘জেলার চারটি আসনে জোটের বিজয় প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমরা কাজ করব।’