‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর দ্বিতীয় বর্ষে থাকতে ডি-বিল্ডিংয়ের এক্সটেনশনের সামনে এই কৃষ্ণচূড়াগাছটি রোপণ করি। গাছটা অনেক বড় ও অনেক সুন্দর হয়েছিল। গাছটার কাছে গেলে আমার খুব ভালো লাগত। আজ আমার পড়াশোনা শেষ। আর গাছটাও শেষ। আমার খুব খারাপ লাগছে। কী অপরাধ ছিল গাছটার?’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেলের পার্কিং স্লটের নির্মাণকাজের জন্য কৃষ্ণচূড়াগাছটির মূল কাণ্ড ছাড়া পুরোটাই কেটে ফেলা হয়েছে। গাছটি রোপণ করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাজী শাফায়েত।
হঠাৎ গাছটি এভাবে কেটে ফেলায় খারাপ লাগার কথা জানিয়ে শাফায়েত বলেন, ‘তারা (কর্তৃপক্ষ) গাড়ি রাখার জন্য ছাউনি তৈরি করছেন। চাইলে ছাউনিটি একটু সরিয়ে দিতে পারতেন। আমি কাজের লোকগুলোকে জিজ্ঞেস করলে ওনারা বলেন, একজন প্রকৌশলী নাকি বলছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সাস্টিয়ানদের কাছে বিচার চাই। কী অপরাধ ছিল গাছটার?’
আজ সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, কৃষ্ণচূড়াগাছটির কাটা ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। শুধু গাছটির মূল কাণ্ড দাঁড়িয়ে আছে।
শাফায়েত জানান, ২০২৪ সালের ১৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি থেকে এনে কৃষ্ণচূড়ার চারাটি রোপণ করেছিলেন তিনি। তিনি সব সময় গাছটির খেয়াল রাখতেন এবং নিয়মিত পরিচর্যা করতেন।
আজ সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, কৃষ্ণচূড়াগাছটির কাটা ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। শুধু গাছটির মূল কাণ্ড দাঁড়িয়ে আছে।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাইকেল স্ট্যান্ড বানানোর কারণে গাছটির কিছু ডালপালা পার্কিং স্লটের শেডের মধ্যে পড়েছিল। ঠিকাদার ফোন দিয়েছিল বিষয়টি নিয়ে। তাদের বলা হয়েছিল শুধু স্লটের সঙ্গে যুক্ত গাছের ডালটি কেটে ফেলার জন্য। এইটা মিস্ত্রি তার নিজের মনগড়ামতো কেটেছে। আমাদের বা আমার পক্ষ থেকে কোনো গাছ কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’ ইমদাদুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘তবে ঠিকাদার বলেছেন, উনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ১০টি গাছ দেবেন। এই ধরনের ভুল যাতে আর না হয়, ঠিকাদারকে ভালোভাবে নোটিশ করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূসম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ শাখার প্রধান আবুল হাসনাত বলেন, ‘গাছটি কে বা কারা কেটেছে, জানা নেই। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। গাছটি কেটে ফেলা সত্যই দুঃখজনক। আমিও নিয়মিত গিয়ে দেখতাম। গাছটি সুন্দর ছিল।’