সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় তিন খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালায় পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পাশের একটি খালি প্লট থেকে ছুরি উদ্ধার করা হয়
সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় তিন খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালায় পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পাশের একটি খালি প্লট থেকে ছুরি উদ্ধার করা হয়

সিলেটে তিন খুন

বাড়ির পাশের খালি প্লট থেকে ‘হত্যায় ব্যবহৃত’ ছুরি উদ্ধার পুলিশের

সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় স্বামী, স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। জড়িত সন্দেহে আটক যুবক বাবুল মিয়ার (৩৫) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের পাশের খালি প্লট থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মঞ্জুরুল আলম বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মিতালি আবাসিক এলাকার একটি খালি প্লট থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ওই বাসার বাসিন্দা আবদুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাঁদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগম (২০)।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বাবুল রঙের মিস্ত্রির পাশাপাশি কসাইয়ের কাজ করেন। এর আগে তিনি আবদুস সাত্তারের বাসায় রঙের কাজ করেছিলেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে বাবুল ওই বাসায় যান। গৃহপরিচারিকা তাহমিনা দরজা খুলে দিলে তিনি ভেতরে ঢোকেন। সেখানে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাহমিনার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাহমিনাকে কোপান। তাঁর চিৎকার শুনে গেলে সুরাইয়া বেগম ও আবদুস সাত্তারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর বাবুল বন্ধ ঘরের বারান্দা দিয়ে নেমে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গতকাল বিকেলে রায়নগর এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বেলা একটায় পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি বলে জানান অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল আলম।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির বলেন, আবদুস সাত্তারের ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি দেশে ফিরছেন। তাঁর দেশে ফেরার পর লাশ দাফন ও মামলার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। স্বজনেরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিন খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তোলা

মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবিতে মানববন্ধন

ওই তিনজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মিতালি আবাসিক এলাকা সমাজকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সিলেট শান্তিপূর্ণ নগরী। এই নগরে এ ধরনের রোমহর্ষ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অতীতে ঘটেছে বলে আমাদের জানা নেই। এ ঘটনায় আমরা ব্যথিত হয়েছি।’

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন রঙের মিস্ত্রি এত কম সময়ে তিনজনকে হত্যা করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারেন—এটি তাঁদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

আবদুস সাত্তারের নগরের লামাবাজার এলাকায় জায়গা আছে জানিয়ে বক্তারা বলেন, ওই জায়গা নিয়ে বিরোধের বিষয়েও অভিযোগ আছে। তাই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পত্তিসংক্রান্ত কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।