গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ৯ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে শর্ষের চাষ হয়েছে। খেতে রোগবালাই কম।

যশোরে গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ৯ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে শর্ষের চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। খেতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হচ্ছে। ভালো ফলনের আশায় আছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর শর্ষে বপনের পরপরই ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে পানি জমে অনেক শর্ষের খেত নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও অবশিষ্ট শর্ষের ফলন ভালো হয়েছিল। সারা বছর স্থানীয় বাজারে শর্ষের দাম ভালো ছিল। তা ছাড়া শর্ষের নতুন জাত চাষ করে ওই জমিতে বোরো চাষ করা যায়। এ কারণে তাঁরা এবার শর্ষে চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
ছয় বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭-২০১৮ রবি মৌসুমে জেলায় শর্ষের আবাদ হয়েছিল ৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে। ২০১৮-২০১৯ রবি মৌসুমে ৯ হাজার ৭৭৫ হেক্টর, ২০১৯-২০২০ রবি মৌসুমে ১৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর এবং ২০২০-২০২১ রবি মৌসুমে শর্ষের আবাদ হয়েছিল ১৫ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে। ২০২১-২০২২ রবি মৌসুমে শর্ষে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার হেক্টর জমি। চাষ হয়েছিল ১৫ হাজার ২৮১ হেক্টর জমিতে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে খেতে বৃষ্টির পানি জমে জেলার ৩ হাজার ৪৮১ হেক্টর জমির শর্ষের ক্ষতি হয়। চলতি রবি মৌসুমে শর্ষে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার হেক্টর জমি। তবে আবাদ হয়েছে ২৪ হাজার ৩০২ হেক্টর জমিতে।
চলতি মৌসুমের শুরুতে শর্ষে চাষে উৎসাহী করতে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। জেলার ৩১ হাজার ৫০০ জন কৃষককে ১ কেজি করে বারি শর্ষে-১৪, বারি শর্ষে-১৭, বারি শর্ষে-১৮ ও বিনা শর্ষে-৯ জাতের বীজ এবং ১০ কেজি করে ডিএপি (ডাই অ্যামেনিয়াম ফসফেট) ও ১০ কেজি করে এমপি (মিউরেট অফ পটাশ) সার দেওয়া হয়েছে।
বাঘারপাড়া, শার্শা এবং অভয়নগর উপজেলার কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, পুরো মাঠ হলুদে ছেয়ে আছে। বেশির ভাগ খেতে শর্ষেগাছে ফুল বেরিয়েছে। অনেক খেতে শর্ষে গাছ থেকে দুয়েকটি করে ফুল বের হচ্ছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম এবার ৫২ শতকে বিঘার ১৫ কাঠা জমিতে টরি-৭ জাতের শর্ষে চাষ করেছেন। গত
বছর তিনি ৮ কাঠা জমিতে শর্ষে চাষ করে সাড়ে তিন মণ শর্ষে পেয়েছিলেন। তিনি বলেন,‘এবার শর্ষের ফলন খুব ভালো হবে। শর্ষে কেটে ওই জমিতে বোরো ধান লাগাব।’
শার্শা উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের কৃষক ইসমাইল মণ্ডল বলেন, গত বছর ১০ কাঠা জমিতে শর্ষের চাষ করে আড়াই মণ শর্ষে পেয়েছিলেন। এবার তিনি দেড় বিঘা (৩৩ শতকে বিঘা) জমিতে বারি শর্ষে-১৮ জাতের চাষ করেছেন। শর্ষের অবস্থা খুব ভালো। ফলন ভালো হবে। বাজারে তেলের দাম বেশি। এবার শর্ষের দামও ভালো পাওয়া যাবে।
অভয়নগর উপজেলার বানীপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম এবার এক বিঘা (৪৮ শতকে বিঘা) জমিতে টরি-১০ জাতের শর্ষের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর বৃষ্টিতে আমার এক বিঘা জমির শর্ষের খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। তারপরও চার মণ শর্ষে পেয়েছিলাম। এবার আবহাওয়া ভালো। রোগবালাই তেমন হয়নি। পোকার আক্রমণও নেই। খেতের অবস্থা ভালো দেখা যাচ্ছে। ফলন ভালো হবে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, গত বছর দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকেরা এবার বেশি জমিতে শর্ষের চাষ করেছেন। তা ছাড়া কৃষকদের পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বারি শর্ষে-১৪ জাতের শর্ষের বপনের ৭৫–৮০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। গাছ লম্বা হওয়ায় এর পাতা মাটিতে ঝরে পড়ে জৈব সারের কাজ করে। বারি শর্ষ-১৪ জাতের শর্ষের আবাদের পর ওই জমিতে বোরো আবাদ করা যায়। বোরো আবাদে জমিতে সারের পরিমাণও কম লাগে।