কেটে ফেলা কাঠবাদামগাছ। শনিবার বিকেলে রাজশাহী নগরের কলাবাগান এলাকায়
কেটে ফেলা কাঠবাদামগাছ। শনিবার বিকেলে রাজশাহী নগরের কলাবাগান এলাকায়

রাজশাহীতে সড়ক সম্প্রসারণের জন্য কাটা হচ্ছে ৩০ কাঠবাদামগাছ

কংক্রিটে মোড়ানো শহরে একচিলতে ছায়ার কী দাম, তা বুঝতে পেরেছিলেন রাজশাহী নগরের কলাবাগান এলাকা বাসিন্দা সামিউল আলিম (৩০)। কাঠফাটা রোদের মধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়কে এসে দাঁড়ালেই প্রাণ জুড়িয়ে দিত কাঠবাদামের ছায়া।

নগরের ঘোষপাড়ার মোড় থেকে রাজীব চত্বর পর্যন্ত সড়কের পাশের ৩০টি কাঠবাদামগাছের ছায়ার মায়ায় বাঁধা পড়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। সামিউল আলিম বললেন, ‘আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে দুপুরবেলায় মনে হতো সড়কের পাশে গিয়ে দাঁড়াই। আজ মনে হচ্ছে মরুভূমিতে এসে দাঁড়িয়েছি।’

গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ধাপে ধাপে গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। বিকেল পাঁচটার দিকে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আর একটিমাত্র গাছ বাকি রয়েছে। বাকি ২৯টি গাছের মধ্যে ৩টির ডালপালা কেটে ফেলা হয়েছে। ২৬টি গাছের গোড়া কেটে ফেলা হয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরের সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০১০ সালের দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০টি কাঠবাদামগাছ রোপণ করেছিল। সময়ের ব্যবধানে প্রায় ১৬ বছরে এসব গাছ বড় হয়ে ওঠে এবং পথচারীদের জন্য আরামদায়ক ছায়া সৃষ্টি করে। মৌসুমে গাছে কাঠবাদাম ধরত, যা ঝরে পড়ে আশপাশের শিশুদের কাছে আনন্দের উপকরণ হয়ে উঠত। সম্প্রতি ওই এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের পর সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলে গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শনিবার স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম (৬২) কাটার সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। গাছের প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, ‘খুব খারাপ লাগছে। গাছগুলো কাটা উচিত হয়নি। রোদের মধ্যে কাঠবাদামগাছের নিচে এসে দাঁড়ালে শরীরটা জুড়িয়ে যেত। আজ আর দাঁড়াতে পারছি না। গাছগুলোর মায়ার পড়ে গিয়েছিলাম!’

গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সরদার মো. গাজি জানান, আটজন শ্রমিক টানা তিন দিন ধরে গাছ কাটার কাজ করছেন। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী সিটি করপোরেশন থেকে গাছগুলো কিনে নিয়েছেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান বলেন, বিধি অনুসরণ করে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তিনি জানান, ফ্লাইওভার নির্মাণের পর সড়কের একপাশের প্রস্থ কমে যাওয়ায় নির্ধারিত সাড়ে তিন মিটার প্রস্থ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সড়ক সম্প্রসারণের স্বার্থে গাছগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি ড্রেনের ওপর দিয়ে ফুটপাত নির্মাণ করা হবে এবং ফুটপাতের পাশে নতুন করে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজশাহীতে পরিবেশ নিয়ে কাজ করে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে তাঁরা রাজশাহী জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছিলেন। তখন শেষ বেলা হওয়ায় আর অভিযোগ দেওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠিয়েছিলেন। এদিকে পরবর্তী কার্যদিবস আসার আগেই সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি প্রায় ছয় মাস আগে রাজশাহীতে যোগদান করেছেন। এর মধ্যে গাছ কাটার ব্যাপারে যোগাযোগ হয়েছে বলে তিনি মনে করতে পারছেন না। তবে ফাইল দেখে বলতে পারবেন যে তিনি আসার আগে এ–সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না।