বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রশাসন—সব দলীয়করণ করা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মির্জা ফখরুল। আজ বৃহস্পতিবার সকালে
ছবি: প্রথম আলো

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিচার বিভাগ, পুলিশ, প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়কেও দলীয়করণ করা হয়েছে। এখানে (ঠাকুরগাঁওয়ে) শুনলাম প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে। যেই দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে ঘুষ দিয়ে চাকরি পেতে হয়, তাহলে সে কী পড়াবে!’

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। এ সময় সাংবাদিকেরা বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে বিএনপি ও যারা যুগপৎ আন্দোলনে শরীক হবে, তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) মাপকাঠিতে বাংলাদেশকে একটি ‘হাইব্রিড’ শাসনব্যবস্থার দেশ বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান বাতিল করা হয়েছে। সেটা বাতিল করে সরকার যেসব আইন পরিবর্তন করেছে, সংবিধানে পরিবর্তন করেছে, তখন থেকেই ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ইআইইউ এখন বাংলাদেশকে হাইব্রিড শাসনব্যবস্থার দেশ বলছে, এটা কিন্তু আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি। যখন একটি সরকার জনগণের সমর্থন হারিয়ে রাষ্ট্রীয় যন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকে, পাশাপাশি নির্বাচনও করে। আবার সেই নির্বাচনকেও নিয়ন্ত্রণ করে তারা ক্ষমতায় যায়, তখন এই শাসনব্যবস্থার পুরো সিস্টেমটা সরকারের পক্ষে চলে যায়। এই সরকারও একইভাবে পুরো সিস্টেমটাই তাদের পক্ষে নিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা এটার প্রতিবাদেই আন্দোলন করছি।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষের বেঁচে থাকাই এখন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণের দাম তো আকাশচুম্বী হয়েছেই। সেই সঙ্গে অন্যান্য যা আছে, যেমন শিক্ষা ক্ষেত্রেও খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এখন শিক্ষাব্যবস্থাকে একটা পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। একইভাবে হাসপাতালে গিয়ে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। কয় দিন আগে বিভিন্ন ধরনের ৫০টি ওষুধের দাম ৫৪ থেকে ১৩৫ শতাংশ বেড়েছে, যা মানুষের জন্য ভয়ংকর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, দেশে সুশাসন থাকবে কী করে? কোনো ক্ষেত্রেই তো জবাবদিহি নাই। সরকারি কর্মকর্তারা কী করছেন, তার হিসাব–নিকাশ নেই। জনপ্রতিনিধিরা যা খুশি, তাই করছেন। মেগা প্রকল্পের খরচেও কোনো জবাবদিহি নেই। এসব কারণে বাংলাদেশ এখন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, আবু তাহের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক, দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশিদ প্রমুখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।