কুমিল্লা নগর 

সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মিশুক 

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এ যানবাহন চলাচলে অনুমতি দেয়নি। এরপরও নগরের অলিগলি থেকে শুরু করে বড় সড়ক—সবখানে চলছে এ মিশুক।

কুমিল্লা নগরের প্রতিটি সড়কে দিনভর লেগে থাকে যানজট। এর মধ্যে সড়কে চলাচল করছে নিবন্ধনবিহীন তিন চাকার বাহন ‘মিশুক’। নগরের অলিগলি থেকে শুরু করে বড় সড়ক—সবখানে চলছে এ মিশুক। গতকাল নগরের বাদুড়তলা এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

কুমিল্লা নগরে বিভিন্ন সড়কে বের হলেই চোখে পড়বে নতুন এক তিন চাকার বাহন ‘মিশুক’। পায়েচালিত রিকশা আর ইজিবাইকের নকশার সমন্বয়ে এ মিশুক নির্মাণ করা হয়। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এ যানবাহন চলাচলে কোনো ধরনের অনুমতি দেয়নি। এরপরও নগরের অলিগলি থেকে শুরু করে বড় সড়ক সবখানে চলছে এ মিশুক।

নগরের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে নগরের বিভিন্ন সড়কে হাতে গোনা কয়েকটি মিশুক দেখা গিয়েছিল। এই বাহনের পেছনের অংশটা রিকশার মতো। আসন আর হুড আছে। সেখানে দুজন বসতে পারেন। আর চালকের অংশ আর তিনটি চাকা ইজিবাইকের মতো। গতিও ইজিবাইকের মতো। চালকের পাশে বসতে পারেন একজন। রিকশার চেয়ে বাহনের চেয়ে উচ্চতা কম।  

কুমিল্লার ট্রাফিক পরিদর্শক জিয়াউল চৌধুরী বলেন, অবৈধ যানবাহন ধরে সম্প্রতি তাঁরা ২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছেন। নিবন্ধনহীন এই মিশুকের কারণে নগরে যানজট ক্রমাগত বাড়ছে। সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এই বাহন ঠেকানো কষ্টকর হবে।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) কুমিল্লার সহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমরা ইঞ্জিনচালিত বাহনের নিবন্ধন ও অনুমোদন দিই। মিশুকের অনুমোদন দিইনি।’

গতকাল রোববার সকালে কুমিল্লা নগরের লাকসাম সড়ক, টমছম ব্রিজ, মহিলা কলেজ সড়ক, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ সড়ক, রানীর বাজার, নজরুল অ্যাভিনিউ সড়কে দেখা গেছে তীব্র যানজট। এ সময় সড়কে অনেক মিশুক দেখা যায়। 

মিশুকচালক চান্দিনার মহিচাইল গ্রামের মো. বশির (৫০) বলেন, ‘আগে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতাম। এখন মিশুক চালাই। এতে আয় বেশি। তাই মিশুক চালিয়েছি।’

আরেক মিশুকচালক ফজলুল হক বলেন, ‘হঠাৎ করে নগরে এই ধরনের গাড়ি বেড়ে গেছে। প্রধান সড়ক অলিগলি সবখানে যাওয়া যায়। রিকশায় যেতে বেশি সময় লাগে। আবার ইজিবাইক নিলে ভাড়া বেশি লাগে। তাই এ দুইয়ের মাঝামাঝি এ মিশুক আসায় তাঁদের আয় ভালো হয়। 

মিশুক চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগরের দক্ষিণ চর্থা, ঢুলিপাড়া, মুরাদপুর, অশোকতলা, নূরপুর এলাকায় মিশুকের গ্যারেজ আছে। একেকজন মালিকের সর্বনিম্ন ৪০টি করে মিশুক আছে। মিশুক মালিকেরা একেকজন চালকের কাছ থেকে দৈনিক ৪৫০ টাকা করে নেন। প্রতিটি মিশুকের দাম ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মতো। অন্যদিকে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার দৈনিক ভাড়া ৩০০ টাকা। 

এ বিষয়ে এক গ্যারেজ মালিক বলেন, নগরে কতটি মিশুক চলে, তা তাঁর নির্দিষ্টভাবে জানা নেই। তবে এ সংখ্যা ৫০০-এর বেশি। 

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনুমোদনহীন যানবাহনের ব্যাপারে করণীয় কী, তা নিয়ে আমরা বসব। ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও  মিশুকের কোনো নিবন্ধন নেই।’

মেয়র আরফানুল হক বলেন, নিবন্ধনহীন যানবাহন নগরে বহু আগে থেকে চলছে। টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে এদের সড়কে নামানো হয়। এর সঙ্গে কারা জড়িত তার তালিকা আছে সিটি করপোরেশনের কাছে। সিটি করপোরেশন মিশুককে নিবন্ধন দেয়নি। এর কারণে যানজট বাড়ছে।