বিয়ে না করেই ফিরে যাচ্ছেন চীনা যুবক হাইশান। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উত্তর পার সাঁওতা গ্রামে
বিয়ে না করেই ফিরে যাচ্ছেন চীনা যুবক হাইশান। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর উত্তর পার সাঁওতা গ্রামে

অনলাইনে পরিচয়, বিয়ে করতে এসে প্রেমিকার বয়স কম দেখে ফিরে গেলেন চীনা যুবক

সাত মাস আগে অনলাইনে একটি মিউজিক গ্রুপে পরিচয়। আলাপচারিতার একপর্যায়ে বাংলাদেশি কিশোরীর সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন এম এ হাইশান (৩৯) নামের ওই যুবক। তবে প্রেমিকার (১৬) বিয়ের বয়স না হওয়ায় বিয়ে না করেই ফিরে গেলেন ওই চীনা যুবক।

ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিয়ে না করেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন হাইশান। এর আগে বুধবার বিকেলে প্রেমিকার বাড়িতে এসেছিলেন এই চীনা যুবক।

চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, অনলাইনে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক মেয়ের সঙ্গে চীনা যুবকের প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে বুধবার ছেলেটি ঢাকা পৌঁছালে মেয়ে ও তার স্বজনেরা তাঁকে বিকেলে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল ও এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, মেয়েটির বিয়ের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক নয়। পরে ইউএনওর নির্দেশনায় চীনা যুবককে বুঝিয়ে মেয়ের স্বজনদের সঙ্গে ফের ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাপড়া ইউনিয়নের ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে গেছে। আর চীনা যুবকের সঙ্গে গুগল ট্রান্সলেটের সাহায্যে কথা বলছেন স্থানীয় প্রতিনিধি, স্বজন ও পুলিশের সদস্যরা। আশপাশে উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। দুপুর ১২টার দিকে মেয়েটি বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর একটি ভ্যানে করে চীনা যুবক চলে যান।

ওই কিশোরীর মা বলেন, ‘মেয়ের বয়স হয়নি। ভুল করে বিদেশের লোককে বাড়ি নিয়ে এসেছিল। সাধ্যমতো আদর–খেদমত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান, মেম্বার, পুলিশের সহযোগিতায় ছেলে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’

ওই কিশোরী বলে, ‘একটি মিউজিক গ্রুপে সাত-আট মাস আগে পরিচয় হয়েছিল। চীনা ভাষা বুঝিনে। তেমন প্রেম–ভালোবাসা হয়নি। তবু তিনি (চীনা যুবক) বিয়ের জন্য চলে এসেছে। কিন্তু আমার বয়স না হওয়ায় বিয়ে হয়নি। ভবিষ্যতে ছেলেটি আবার ফিরে আসলে বিয়ে করব।’

বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারেন না চীনা যুবক এম এ হাইশান। তবে অ্যাপসের গুগল ট্রান্সলেটরের মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমি চীনের গানসু প্রদেশ থেকে এসেছি। আমি বাংলাদেশে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে বিয়ে করতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিন মাসের সম্পর্ক। আমি চীনে ফিরে যাওয়ার পর আরও দেড় বছর সময় আছে। দেড় বছর পর আমি আবার ফিরে আমার প্রিয়তমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হব।’

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, সম্পর্কের জেরে এক চীনা যুবক কুমারখালীতে এসেছিলেন বিয়ের জন্য। কিন্তু মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় যুবককে ভালোভাবে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।