টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্রামের বাড়িতে আবদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। সম্প্রতি তোলা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্রামের বাড়িতে আবদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। সম্প্রতি তোলা

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ

বাড়িতে ফিরলেন বৃদ্ধ দম্পতি, প্রবাসী ছেলে পাঠাবেন মাসে এক লাখ টাকা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সম্পত্তি নিয়ে ছেলের সঙ্গে বিরোধের জেরে বাড়ি ছেড়ে আসা বৃদ্ধ দম্পতি নিজেদের বাড়িতে ফিরেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের মধ্যস্থতায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন আবদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছে ওই দম্পতির বাড়ি। গতকাল তাঁদের হাতে ছেলে লন্ডনপ্রবাসী চিকিৎসক শাহ জালালের পাঠানো এক লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বাবা-মায়ের ভরণপোষণের জন্য ছেলে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে পাঠাবেন।

গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ওই বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধ দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় মুঠোফোনে তাঁদের ছেলে শাহ জালালের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। দুই সপ্তাহ আগে আবদুর রহমান ও আনোয়ারা বেগম দম্পতি ওই বাড়ি ছেড়ে গ্রামে চলে গিয়েছিলেন।

ওই সময় সখীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম, সহকারী পুলিশ সুপার (সখীপুর সার্কেল) মামুনুর রশিদ, সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর ওই দম্পতিকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছেলে শাহ জালালের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ জালাল দাবি করেছেন, বাবা-মায়ের সম্মতিতেই ইসলামি আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন করা হয়েছে। এ নিয়ে করা মামলা আদালতে বিচারাধীন।

বাবা-মায়ের সঙ্গে লন্ডনপ্রবাসী চিকিৎসক ছেলের বিরোধের আপাতত নিষ্পত্তি হয়েছে জানিয়ে ইউএনও প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রীর পরামর্শে বৃদ্ধ দম্পতিকে মির্জাপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে সখীপুরের নিজেদের বাড়িতে সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বৃদ্ধ দম্পতিকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার পর তাঁদের হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটক সংলগ্ন বাড়িতে

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ

আবদুর রহমান মিয়া সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক চিকিৎসা কর্মকর্তা। প্রায় চার দশক আগে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ২৪ শতাংশ জমি কিনে সেখানে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেন। এ ছাড়া মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কড়িপাড়ার বদরচালা এলাকায় তাঁদের গ্রামের বাড়িতেও জমি আছে।

আবদুর রহমান ও আনোয়ারা বেগমের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। কয়েক বছর আগে আবদুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। শাহ জালালের অভিযোগ, তাঁর বড় বোনের স্বামী কৌশলে মির্জাপুরের প্রায় ২০০ শতাংশ জমির মধ্যে ১০৭ শতাংশ লিখে নেন। এ ছাড়া তাঁর বাবার অবসরের প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহ জালালের ভাষ্য, দেশে এসে বাবা-মায়ের সম্মতিতে সখীপুরের সম্পত্তি ইসলামি ফারায়েজ অনুযায়ী বণ্টনের উদ্যোগ নেন তিনি। সম্পত্তির একাংশ ছোট বোনের নামে, মায়ের প্রাপ্য অংশ মায়ের নামে এবং অবশিষ্ট অংশ নিজের নামে হেবা দলিল করা হয়।

তবে আনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, তিনি স্বেচ্ছায় এসব দলিল করেননি। তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে বাড়ি ছেড়ে যেতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। দলিল বাতিল চেয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন। এ ছাড়া মারধরের অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার ছেলের

শাহ জালাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দলিল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া প্রায় ১০ দিন ধরে চলে। এ সময় তাঁর মা উপস্থিত ছিলেন, নামজারি করেছেন এবং দলিলে সাক্ষী হিসেবেও স্বাক্ষর করেছেন। দলিল করার সময় তাঁর মা কোনো আপত্তি জানাননি বলে দাবি করেন।

দলিল নিবন্ধনের সময় জোরজবরদস্তির কোনো ঘটনা নজরে আসেনি বলে জানান সখীপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মাহমুদা আক্তার। তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই একই সময়ে তিনটি দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে।

মারধরের অভিযোগে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রিয়াজ আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।