পুড়িয়ে দেওয়া মোটরসাইকেল ভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কুমারখালী, কুষ্টিয়া; ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পুড়িয়ে দেওয়া মোটরসাইকেল ভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কুমারখালী, কুষ্টিয়া; ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর, অভিযোগ বিএনপি নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে বিএনপির দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার রাতে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়াদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. মিজানুর রহমান (৪০) বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

মিজানুর রহমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা শাখার ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক। মিজানুরের ভাষ্য, তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তিনি যেন প্রার্থী হতে না পারেন, সে জন্য কয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি কেরামত আলী ও তাঁর ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মাসুদ রানা এবং তাঁদের সমর্থকেরা শুক্রবার রাতে দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁর নিজেরসহ কয়েকটি বাড়ি ও দোকানঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন। এ ছাড়া তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছেন।

তবে বিএনপির নেতাদের দাবি, মিজানুর রহমান জেলা স্বেচ্ছাসবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্ট মাসে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দল পরিবর্তন করেছেন। ব্যক্তিগত ইস্যুকে রাজনৈতিক রং লাগিয়ে আলোচিত হতে চাইছেন।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের নজরুল মোড়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া তিনটি মোটরসাইকেল ভ্যানে তোলা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ক্ষত চিহ্ন। থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন।

এ সময় মিজানুরের সমর্থক হেদায়েত উল্লাহ জানান, স্থানীয় একটি ফুটবল খেলার উদ্বোধন শেষে মিজানুর রহমান ও তাঁর অনুসারীরা বাড়াদি নজরুল মোড়ের একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, রামদা ও চায়নিজ কুড়াল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। তাঁরা ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলে তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আরেক সমর্থক খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমার বাড়ির টিভি, ফ্রিজ, রাইস কুকার ও মাটির ব্যাংক ভাঙচুর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ছাড়া ৫২ হাজার টাকা, একটি সোনার হার নিয়ে গেছে। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিজানুরকে সমর্থন করায় প্রতিপক্ষরা অন্তত তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট করছে।’

আধিপত্য নয়, মূলত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন হামলা বলে দাবি করেছেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি যেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হতে না পারি, সে জন্য বিএনপির নেতা কেরামত আলী, তাঁর ছেলে মাসুদ রানা এবং তাঁদের সমর্থকেরা দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন। তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছে। বিচারের আশায় থানায় এজাহার জমা দিয়েছি।’

এদিকে ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন বিএনপির নেতা কেরামত আলী ও তাঁর ছেলে মাসুদ রানা। এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনুস আলী মুঠোফোনে বলেন, মিজানুর এত দিন আওয়ামী লীগে ছিলেন। এখন দল পরিবর্তন করেছেন। মূলত ওয়ার্ড বিএনপির নেতা কেরামত আলীর সমর্থক ডাগু মন্ডলের সঙ্গে নদীতে নৌকা ভাঙা নিয়ে মিজানুরের বিরোধ আছে। নৌকা ভাঙা নিয়েই মূলত হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আলোচিত হওয়ার জন্য রাজনৈতিক রং লাগাচ্ছেন মিজানুর।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও তিনটি মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ–সংক্রান্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এদিকে মিজানুর রহমান ও তাঁর ঘরবাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ ঘটনায় অবিলম্বে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন দলটির নেতারা।