কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর একটি মসজিদের পাশের কক্ষ থেকে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়। সোমবার সকালে
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর একটি মসজিদের পাশের কক্ষ থেকে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়। সোমবার সকালে

রাতে বন্ধুর সঙ্গে মারামারি, ভোরে মসজিদের ইমামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে রাতে বন্ধুর সঙ্গে মারামারির কয়েক ঘণ্টা পর মসজিদের এক ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে মসজিদের পাশের কক্ষে মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে এটি উদ্ধার করে।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. শামীম (২৫)। তিনি কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর-ঝাকালিয়া গ্রামের ইছামুদ্দিন সরকার বাড়ির মসজিদের ইমাম ছিলেন। তাঁর বাবা ওই বাড়ির ফরিদ মিয়া। শামীমের বন্ধু সোহান মিয়া (২৪) একই গ্রামের ছইদু মিয়ার ছেলে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আমি বিশ্বাস করি না, আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। কী কারণে দুই বন্ধুর মধ্যে মারামারি হয়েছিল, সেটাও সে (শামীম) বলেনি। আমার ধারণা, আমার ছেলের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে।
ফরিদ মিয়া, নিহত শামীমের বাবা

মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, শামীম তিন-চার বছর ধরে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হঠাৎ তাঁর এমন মৃত্যু এলাকার সবাইকে বিস্মিত করেছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম ও সোহান ভালো বন্ধু ছিলেন। সোহান প্রায়ই শামীমের সঙ্গে মসজিদের পাশের ইমামের নির্ধারিত কক্ষে ঘুমাতেন। দুই বন্ধুর মারামারি ও শামীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আহত সোহান চিকিৎসাধীন। এখনো তাঁর জবানবন্দি নেওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বরাতে জানা যায়, গতকাল রোববার এশার নামাজের পর শামীম ও সোহান একসঙ্গে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেন। পরে রাত ১০টার পর তাঁরা মসজিদের পাশের কক্ষে ঘুমাতে যান। রাত দেড়টার দিকে ওই কক্ষ থেকে হইচইয়ের শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। তাঁরা সেখানে গিয়ে সোহানকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্থানীয় লোকজনের কাছে সোহান তখন বলেন, শামীম তাঁকে আঘাত করেছেন। তবে কেন তাঁকে আঘাত করা হয়েছে, তা তিনি বলেননি।

শামীম তখন মসজিদের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে থাকা শামীমও সোহানকে আঘাত করার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনিও এর কারণ জানাননি। পরে গুরুতর আহত সোহানকে প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এর মধ্যে আজ সকালে মসজিদের পাশের কক্ষে শামীমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। কক্ষের ধরনার সঙ্গে বাঁধা রশিতে তাঁর মরদেহ ঝুলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না, আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। কী কারণে দুই বন্ধুর মধ্যে মারামারি হয়েছিল, সেটাও সে (শামীম) বলেনি। আমার ধারণা, আমার ছেলের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে।’