
রাজবাড়ীর পাংশায় ছোবল খেয়ে বিষধর জ্যান্ত সাপ নিয়ে হাসপাতালে উপস্থিত হন মো. শহমান মোল্লা (৪৫) নামের এক কৃষক। গতকাল সোমবার দুপুরে তাঁকে সাপে কাটার পর তিনি পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শহমান মোল্লা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের রামকোল গ্রামের মজিবর মোল্লার ছেলে।
জানা গেছে, গতকাল দুপুরে বাড়ির উঠানে খড়ের পালায় কাজ করছিলেন শহমান। এ সময় হঠাৎ বড় আকারের একটি বিষধর গোখরা সাপ তাঁর ডান হাতে ছোবল দেয়। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় শহমান মোল্লা অনেক চেষ্টার পর সাপটি ধরে একটি প্লাস্টিকের পাত্রে ভরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যায় তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) কুতুব আহমেদ আজ মঙ্গলবার সকালে বলেন, রোগী একটি প্লাস্টিকের বড় জারে করে প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা বিষধর গোখরা সাপটি নিয়ে আসেন। বিষয়টি অনেক ভয়ংকর। সাপটি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর আনুষঙ্গিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কুতুব আহমেদ বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকে না। একজন রোগীকে যদি সব ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, তাহলে এমন আরও রোগী এলে তখন ভ্যাকসিন–সংকটে পড়ার শঙ্কা থাকে। এ ছাড়া এ ধরনের রোগীর পরবর্তী সময়ে আরও ভালো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। তাই আমরা তাঁকে প্রাথমিক পর্যায়ে যতটুকু ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন, তা দিয়ে সন্ধ্যার আগেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। সেখানে তাঁর শরীরে আরও অ্যান্টিভেনম দেওয়া লাগতে পারে। সেই সঙ্গে আনুষঙ্গিক চিকিৎসারও প্রয়োজন আছে। তাই ফরিদপুর পাঠানো হয়েছে।’