বিএম কলেজের নতুন উপাধ্যক্ষের পদায়নের পক্ষে-বিপক্ষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশালের বিএম কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে
বিএম কলেজের নতুন উপাধ্যক্ষের পদায়নের পক্ষে-বিপক্ষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশালের বিএম কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে

সাত দিনের আন্দোলনের পর বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষের পদায়ন বাতিল

বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের টানা সাত দিনের আন্দোলনের মুখে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের পদায়ন বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহানের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনের ৮ নম্বর ক্রমিকে বিএম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে একই কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছিল। প্রশাসনিক কারণে তাঁর ওই পদায়ন বাতিল করা হয়েছে।

অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের পদায়ন বাতিলের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন কলেজের বিসিএস ক্যাডারভুক্ত শিক্ষকেরা। তাঁরা কলমবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং তাঁকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেন।

আজ সকালেও এ নিয়ে কলেজে উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল ১০টার দিকে আবুল কালামের পক্ষে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তাঁকে উপাধ্যক্ষ পদে বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একই সময়ে বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের পক্ষে আরেক দল শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজের শিক্ষকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে শিক্ষকেরা প্রশাসনিক ভবন ও অধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে দুই পক্ষের শিক্ষার্থীরা সেখানে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বেলা একটা পর্যন্ত কলেজে উত্তেজনা বিরাজ করে।

কলেজ প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, আজ সকালে আবুল কালাম আজাদ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একটি কক্ষে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁর সমর্থনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তাজুল ইসলাম কলেজের মসজিদ গেট পর্যন্ত এসে প্রশাসনিক ভবনের সামনে হট্টগোল দেখতে পান। পরে তিনি গাড়িতে করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

আন্দোলনরত বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিল না। আমরা ক্যাডার শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলন করেছি। অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ১০ শতাংশ কোটায় আসা নন-ক্যাডার শিক্ষক। ক্যাডার পদে নন-ক্যাডারদের পদায়নের বিরুদ্ধে আমরা ২০১৭ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছি।’ তিনি আরও বলেন, ক্যাডারভুক্ত কলেজের প্রশাসনিক পদে নন-ক্যাডার শিক্ষককে পদায়ন না করার দাবিই ছিল তাঁদের। শেষ পর্যন্ত পদায়ন বাতিল হওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যাপক তাজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

২০ আগস্ট অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন থেকে বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকেরা কলমবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। টানা সাত দিন তাঁরা তাঁকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেন।