
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পাঁচটি দোকান ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন ও দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের মধ্যে ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। অভিযোগ আছে, ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা ওই জমির একটি অংশ জোরপূর্বক দখল করে ২০২০ সালে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা আছে।
দাদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক। তবে গত সংসদ নির্বাচনের আগে বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী (নির্বাচনে পরাজিত) খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে তাঁর প্রতিপক্ষ বিল্লাল হোসেন দাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক।
স্থানীয় লোকজন জানান, গত শুক্রবার বিকেলে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয়ভাবে সালিসের কথা থাকলেও চেয়ারম্যানপক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি। পরে সালিসে অংশ নিতে আসা স্থানীয় ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এর জেরে গতকাল বিকেলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিল্লালের সমর্থক ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং এনামুল চৌধুরীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষের শতাধিক লোক দেশি অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা করেন। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বিল্লাল হোসেন মোল্লা বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় থাকা সত্ত্বেও আমি জমির দখল নিতে পারিনি। বর্তমানে ওই জমি ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন দখল করে রেখেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যানের লোকজন আমার সমর্থক ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকানসহ চার থেকে পাঁচজন সমর্থকের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে, আমার লোকদের পিটিয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিল্লাল কয়েকজন লোক নিয়ে আমার বাড়িতে তালা লাগিয়েছে এবং আমার লোকজনকে পিটিয়েছে। তারা অপরাধ করে এবং আইন হাতে তুলে নিয়ে এখন উল্টাপাল্টা অভিযোগ করে বেড়াচ্ছে।’
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে একটি পক্ষের বিরোধ আছে। গতকাল ওই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি জানান, ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত আছে। এ ঘটনায় আজ রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।