তরুণ গবেষকদের উদ্দেশ্য বক্তব্য দেন বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা। আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে
তরুণ গবেষকদের উদ্দেশ্য বক্তব্য দেন বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা।   আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে

নারীদের গবেষণাগারে আনা কঠিন ব্যাপার: সেঁজুতি সাহা

‘নারীদের গবেষণাগারে একবার-দুবার নিয়ে আসা কঠিন ব্যাপার না। তবে বারবার আনা কঠিন ব্যাপার। তাঁদের এনে নিরাপদ স্থান দেওয়া কঠিন ব্যাপার, রাখা কঠিন ব্যাপার। কারণ, নারীদের নিরাপদ অনুভব করানো অত্যন্ত জরুরি।’

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) পরিচালক অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা। ডিজিজ বায়োলজি অ্যান্ড মলিকুলার এপিডেমিওলজি রিসার্চ গ্রুপ এবং নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ল্যাব চিটাগং (এনরিচ) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।  জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে বিকেল পাঁচটায় এ সভা শুরু হয়।

‘চট্টগ্রামের জন্য ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী তৈরি’ শীর্ষক বক্তৃতায় সেঁজুতি সাহা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণাগার দুটিতে ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ নারী গবেষক কাজ করছেন। তাঁরা সবাই লড়াই করছেন। তবে আসল লড়াই এখনো শুরু হয়নি। আমাদের বাধা আসবে, বাধার শেষ নেই, কোনো দিন শেষও হবে না। তবে আমাদের আরও তিন গুণ পরিশ্রম করতে হবে। কারণ, আমরা লড়াইটা আগামী প্রজন্মের জন্য করছি।’

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মডেল তৈরি করতে হবে উল্লেখ করে সেঁজুতি সাহা বলেন, ‘এ প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা বলেন তাঁদের রোল মডেল নেই। পরবর্তী প্রজন্ম যেন এটা বলতে না পারে, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের এটিই সুযোগ।’

সভায় নিজ গবেষণার নানান অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত অণুজীববিজ্ঞানী সামির সাহা। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যখন দেশে আসি, তখন হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি (শিশুদের দেহে ছড়ানো মারাত্মক সংক্রামক) সম্পর্কে কেউ জানত না। সবাই জানত এটি বাংলাদেশ আর ভারতে নেই। কিন্তু যখন কাজ শুরু করি, তখন দেখেছি, এ জীবাণু অনেক। এতে অনেকে মারা গেছে, অনেকে প্রতিবন্ধী হয়েছে। কিন্তু এখন এ জীবাণু পাওয়া যায় খুবই কদাচিৎ।’

গবেষণাগার থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ তুলে দিচ্ছেন সেঁজুতি সাহা। আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে

জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুব হাসানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন টিকাবিজ্ঞানী সেতারুন্নাহার, ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিনা শারমিন, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইয়গেস হুদা প্রমুখ। আলোচনা শেষে ডিজিজ বায়োলজি অ্যান্ড মলিকুলার এপিডেমিওলজি রিসার্চ গ্রুপ এবং নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ল্যাব চিটাগং থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০ জনকে সনদ দেওয়া হয়।

গবেষণাগার দুটির প্রতিষ্ঠাতা জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক এস এম রফিকুল ইসলাম ও আদনান মান্নান। এ দুটি গবেষণাগার চালু হয় ২০২২ সালের ২৩ মে। এতে মূলত অণুজীব, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের জিনোম বিন্যাস উন্মোচনের কাজ হয়। এখন পর্যন্ত ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ৭৫ শিক্ষার্থীকে এ গবেষণার থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গু, উচ্চরক্তচাপসহ ১৪টি রোগ নির্ণয় প্রকল্প এতে চলমান রয়েছে।