গাজীপুরের শ্রীপুর শিল্পাঞ্চল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শ্রমিকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। আজ মঙ্গলবার
গাজীপুরের শ্রীপুর শিল্পাঞ্চল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শ্রমিকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। আজ মঙ্গলবার

ভোট দিতে বাড়ি যাওয়ার পথে বাড়তি ভাড়া ও যানজটের ভোগান্তি, গাজীপুরে সড়ক অবরোধ

নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত বিশেষ ছুটিতে গাজীপুরের শ্রীপুর শিল্পাঞ্চল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শ্রমিকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। যানবাহনসংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে দ্বিগুণের বেশি ভাড়া আদায় করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন যাত্রীরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে যাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে অবরোধের কারণে মহাসড়কের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ যানজট কিছুটা কমে। তবে গতি মন্থর। একই সঙ্গে যানজট দেখা দিয়েছে গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, নতুনবাজার, নয়নপুর, জৈনাবাজারসহ মহাসড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টে।

নির্বাচন উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ছুটিতে শ্রীপুরসহ আশপাশের শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বাড়ি ফিরছেন।

তবে যাত্রীদের অভিযোগ, সুযোগ বুঝে বাস ও অটোরিকশার চালকেরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছেন।

যাত্রীদের ভাষ্য, মাওনা চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সাধারণ ভাড়া ১০০ টাকা হলেও বর্তমানে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ৫০০ টাকাও দাবি করা হচ্ছে। একইভাবে মাওনা থেকে শেরপুর পর্যন্ত যেখানে ভাড়া ১৫০ টাকা, সেখানে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। এ ছাড়া মাওনা থেকে বাঘের বাজার পর্যন্ত অটোরিকশায় ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা, যা সাধারণ সময়ে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা। একইভাবে ভাড়া বেড়েছে মহাসড়ক লাগোয়া অন্যান্য সড়কেও।

ময়মনসিংহগামী যাত্রী মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাস পাচ্ছি না। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।’ নেত্রকোনাগামী শ্রমিক মো. সজল বলেন, ‘সকালে এসে দেখি, ভাড়া ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়, তাই অপেক্ষা করছি।’

আরেক যাত্রী মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আর হয়রানির কারণে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা সড়ক বন্ধ ছিল। পরে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর যানজট শুরু হয়।

এ বিষয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, সড়ক নিরাপদ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ কাজ করছে।