
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সৈকত থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার এই সাগরপথকে বলা হয় ‘বাংলা চ্যানেল’। এবার এই বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিচ্ছেন দুই নারীসহ দেশের ৩৫ জন সাঁতারু।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় এই সাঁতার শুরু হয়। এর আগে প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল শুক্রবার সাঁতারুরা দল বেঁধে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকতে অনুশীলন করেন। আজও সকালে চলে অনুশীলন।
সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘১৯তম ঢাকা ব্যাংক বাংলা চ্যানেল সাঁতার ২০২৬’ শীর্ষক এই সাঁতারের আয়োজন করেছে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’। ২০০৬ সাল থেকে ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার সাঁতারের এই ইভেন্ট নিয়মিত আয়োজন করে আসছে। এ বছর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ৩৭ জন সাঁতারু নাম লিখিয়েছিলেন। তবে তাঁদের দুজন অংশ নেননি।
ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লিপটন সরকার বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টায় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই সাঁতার প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে পরিচালনা করা হয়। নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক সাঁতারুর সঙ্গে একটি করে উদ্ধারকারী বোট ও একাধিক দিকনির্দেশক বোট রাখা হয়েছে। সাঁতারুদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সহযোগিতা করছে।
২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলা চ্যানেলে প্রথম সাঁতারের আয়োজন করা হয়েছিল। এর আবিষ্কারক ‘অ্যাডভেঞ্চার গুরু’খ্যাত কাজী হামিদুল হকের তত্ত্বাবধানে প্রথমবার ফজলুল কবির সিনা, লিপটন সরকার ও সালমান সাঈদ এই চ্যানেল পাড়ি দেন।
এবার বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন সাইফুল ইসলাম। এর আগেও তিনি ছয়বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। সর্বশেষ পাড়ি দেন ২০২৩ সালে। সে বছর তিনি ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে পাড়ি দিয়ে প্রতিযোগিতায় প্রথম হন। জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগে ছয়বার বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছি। ২০২১ সালে বাংলা চ্যানেল একসঙ্গে দুবার পাড়ি দিয়েছি। এবারও প্রথম হওয়ার চেষ্টা করব।’
বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া প্রথম নারী সোহাগী আক্তারও এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শীত মৌসুম হওয়ায় বঙ্গোপসাগর কিছুটা শান্ত রয়েছে। সাঁতার কাটতে আশা করি সমস্যা হবে না।’