
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘পুলিশ যদি মাদকের স্পট থেকে টাকা নেয়, থানায় জিডি-মামলা করতে টাকা নেয়—সেই পুলিশের বিরুদ্ধে জনগণকে তথ্য দিতে হবে। তথ্য পেলে সেই পুলিশকে চাকরি থেকে বিদায় করে দেব।’
আজ রোববার সন্ধ্যায় বগুড়ার শাজাহানপুর থানা কমপ্লেক্সে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির।
দেশে মোট লোকসংখ্যার ১ শতাংশ অপরাধী উল্লেখ করে মতবিনিময় সভায় আইজিপি বলেন, শান্তিপ্রিয় সব মানুষ যদি এই ১ শতাংশ অপরাধীকে বর্জন করে, তারা সমাজে টিকতে পারবে না। জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণের সমর্থন থাকলে সব ভালো কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আগামীর নেতৃত্বদানের জন্য, যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হবে। কিন্তু সেই প্রজন্মকে নষ্ট করে দিচ্ছে মাদক। থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কেউ মাদক ব্যবসা করলে অনেক সময় পুলিশের পক্ষে তা জানা সম্ভব হয় না।’
আইজিপি আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, প্রতিটি জেলায় মাদক কারবারির তালিকা তৈরিসহ মাদক কারবারিরা মানি লন্ডারিং করছে কি না, অন্য কোনো ব্যবসা আছে কি না সেই তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশের অপরাধ দমন ইউনিট (সিআইডি) কাজ করছে।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী এক নম্বর এজেন্ডা ছিল আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন। সেই আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্য পুলিশ নিরাপদ পরিবেশ তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ বাহিনী দীর্ঘ ১৭ বছরে জনগণের সঙ্গে অন্যায়–অবিচারের কারণে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই জনগণের আস্থা ফেরানোর জন্য বগুড়া থেকেই কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। ২০ কোটি মানুষের জন্য পুলিশ আছে ২ লাখ ১৫ হাজার। প্রতি ৯০০ মানুষের সেবার জন্য পুলিশ আছে ১ জন। ১ জন পুলিশের পক্ষে কি ৯০০ মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব? এ জন্য কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে। বিগত আমলে কমিউনিটি পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে। মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁরা এমন কমিউনিটি পুলিশ চান না। জনবান্ধব কমিউনিটি পুলিশিং চান।’
২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে পুলিশের ৬০০ গাড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘পুলিশের ওপর জনগণের ক্ষোভ থাকতে পারে, আক্রোশ থাকতে পারে; কিন্তু পুলিশ তো দেশের সম্পদ নষ্ট করেনি। অথচ পুলিশের অনেক সম্পদ নষ্ট করা হয়েছে। পুলিশের সামর্থ্য ২০ শতাংশ কমেছে। পুলিশের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার জন্য এক হাজার নতুন গাড়ি প্রয়োজন। পর্যায়ক্রমে পুলিশের জন্য নতুন গাড়ি কিনতে হবে।’
এর আগে আইজিপি শাজাহানপুর থানা পরিদর্শন করেন এবং থানা চত্বরে দারুচিনি বৃক্ষ রোপণ করেন। এ সময় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, রাজশাহী আরআরএফের কমান্ড্যান্ট দ্বীন মোহাম্মদ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শহীদ আবু সরোয়ার, বগুড়ার পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।