
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান। পার্শ্ববর্তী বালুঘাটা গ্রামের জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক আমীর হোসেনের সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মজার ছলে একটি বাজি ধরেছিলেন। বাজির শর্ত ছিল, শেরপুর–২ (নকলা ও নালিতাবাড়ী) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হলে আবদুল মান্নান আমীর হোসেনকে ছয়টি মহিষ দেবেন। আর ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হলে আবদুল মান্নান পাবেন একটি মহিষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, শেরপুর–২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৫ ভোট।
ফলে বাজির শর্ত অনুযায়ী আবদুল মান্নান আজ শুক্রবার সকালে ব্যান্ড পার্টির বাজনা বাজিয়ে আমীর হোসেনের বাড়ি থেকে একটি মহিষ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমি আগে থেকেই বলেছিলাম ধানের শীষই জিতবে। তাই মজা করে বাজি ধরেছিলাম। ফলাফল হওয়ার পর শর্ত অনুযায়ী মহিষ নিয়ে বাড়ি ফিরেছি।’
মহিষ নিয়ে মান্নানের বাড়ি ফেরার খবরে নাকশী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টিকে ঘিরে হাসি-আনন্দ করেন। অনেকেই মান্নানকে অভিনন্দন জানাতে বাড়িতে ভিড় করেন।
আবদুল মান্নানের ছেলে সোহেল মিয়া বলেন, ‘আমার আব্বা বাজিতে মহিষ জেতায় আমরা সকালে ব্যান্ড পার্টি নিয়ে জামায়াতের ওই সমর্থকের বাড়ি থেকে মহিষ নিয়ে এসেছি।’ স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ‘এটা আসলে মজার বাজি ছিল। কিন্তু ফলাফল হওয়ার পর মহিষ নিয়ে বাজনা বাজিয়ে যেভাবে মান্নান ভাই বাড়ি ফিরেছেন, সেটা দেখতে সবাই বের হয়ে এসেছিল।’
এ বিষয়ে কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, ‘আমীর হোসেন ও আবদুল মান্নানের মধ্যে নানা-নাতির সম্পর্ক। তাঁরা মজার ছলেই বাজি ধরেছিলেন। আজ বাজনাসহ বাজার ঘুরে মান্নান বাজির মহিষ তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে এখনো ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’