বদরগঞ্জে আলুর বাজার

এক দিন পর আবার বাড়ল দাম

প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বুধবার ৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হলেও শুক্রবার সেই আলু ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

বদরগঞ্জে শাহজালাল হিমাগারের আলু বিক্রির জন্য বস্তায় ভরা হচ্ছে। গতকাল
ছবি: প্রথম আলো

রংপুরের বদরগঞ্জে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গত বুধবার ৩৫ টাকা কেজি দরে পাঁচ টন কার্ডিনাল জাতের আলু বিক্রি করা হয়েছিল। এ জন্য আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকায় বিষয়টি মাইকিং করে সর্বসাধারণকে জানানো হয়।

মাইকিং শুনে পরদিন বুধবার সকাল থেকে স্থানীয় পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরাও ওই জাতের আলু ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই আলু পুনরায় তাঁরা বিক্রি করেন ৪০ টাকায়। গতকাল শুক্রবার কেজিপ্রতি আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করেছেন ৪৫ টাকায়। এদিকে শীল জাতের আলু বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা কেজি দরে।

প্রশাসনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আলুর দাম কমানো এবং এক দিন পরই তা বাড়ানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পৌর বাজারের খুচরা আলু বিক্রেতা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওই দিন আমরা কম দামে কিনে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। সরকারিভাবেও (উপজেলা প্রশাসন) ওই দিন বিক্রি করা হয়েছিল ৩৫ টাকায়। এখন বেশি দামে কিনেছি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।’

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌর বাজারের তিনজন খুচরা বিক্রেতা জানান, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কম দামে আলু বিক্রির মাইকিং হওয়ার পর গত মঙ্গলবার রাতে বাজারের খুচরা আলু বিক্রেতারা বৈঠকে বসেন। এরপর প্রশাসনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁরাও ৩৫ টাকা কেজি দরে গত বুধবার দিনভর আলু বিক্রি করেন।

বদরগঞ্জ পৌর বাজারে গতকাল আলু কিনতে আসা বরকতুল্লাহ সরকার বলেন, ‘সরকার (প্রশাসন) যেদিন আলু বেচাইলো ৩৫ টাকা কেজি, ওরাও (ব্যবসায়ীরা) সেদিন বেচাইলো ৩৫ টাকাত। আইজ ফির কেজিতে ১০ টাকা বাড়েয়া বেচাওচে ৪৫-৪৭ টাকা। হামার জেবন বাঁচে না, আর ব্যবসায়ীরা ছিনিমিনি খেলা শুরু করছে। সরকার ওমাক ধরে না ক্যান!’

আরেক ক্রেতা ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘প্রশাসন এক সপ্তাহ ধরি আলু বেচাইলে ব্যবসায়ীরা ঠিক হইতো। এরা (ব্যবসায়ীরা) বাজারোত সবাই মিলি জোট করিয়া আলু বেশি দামোত বিক্রি করোচে। সরকারের উচিত এমাক ধরিয়া শাস্তি দেওয়া।’

সাধারণ ক্রেতা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল। এর পেছনে সিন্ডিকেট কাজ করে। এ কারণে প্রশাসনিক অভিযান, বৈঠক কোনো কিছুতেই তেমন কাজ হয় না।

বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাঈদ বলেন, আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণ না হওয়ায় তিনি রংপুর জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সহায়তা নিয়ে বুধবার বদরগঞ্জ পৌর বাজারে সাধারণ মানুষের কাছে পাঁচ টন আলু ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। প্রশাসন এদিন সকাল ১০টায় আলু বিক্রি শুরু করার আগেই স্থানীয় পৌর বাজারে ব্যবসায়ীরাও ৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি শুরু করেন। অথচ সেই আলু আগের দিন মঙ্গলবারও তাঁরা বিক্রি করেছেন ৪৭ টাকা কেজিতে।

ইউএনও আরও বলেন, ‘বাজার তদারকিতে নামলে আলুর দাম কমে যায়। অফিসে ফিরে এলে দাম বাড়ে। আসলে আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে সিন্ডিকেট। প্রয়োজনে আবারও প্রশাসনের উদ্যোগে কম দামে আলু বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে গতকাল বদরগঞ্জ পৌর বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলু ছাড়া অন্য সবজির দাম কমেছে। কমেছে শাক ও লাউয়ের দামও। তবে দেশি জাতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৩০ টাকা ও রসুন ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।