দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় প্রায় ৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় গাড়ির দীর্ঘ সারি হয়। আজ শনিবার সকালে
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় প্রায় ৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় গাড়ির দীর্ঘ সারি হয়। আজ শনিবার সকালে

ঝোড়ো বাতাসে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় প্রায় ৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল

কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে আবার ফেরি সেবা চালু হয়। এ সময় নৌপথ দিয়ে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহন উভয় ঘাটে অপেক্ষা করতে থাকে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয় জানায়, গতকাল শুক্রবার রাত ৩টার পর পদ্মা নদী অঞ্চলে প্রচণ্ড ঝড় ও বাতাস শুরু হয়। সেই সঙ্গে বৃষ্টিও হয়। দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাত সোয়া ৩টা থেকে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় পাটুরিয়া প্রান্তে ৩ নম্বর ঘাটে রো রো (বড়) ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, ভাষাসৈনিক গোলাম মাওলা, ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি হাসনা হেনা, ৪ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি শাহ মখদুম, শাহ পরান, খান জাহান আলী, কে–টাইপ (মাঝারি) ফেরি কুমিল্লা এবং ৫ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি ভাষাশহীদ বরকত নোঙর করে ছিল।

এ ছাড়া দৌলতদিয়া প্রান্তে ৪ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এবং ৭ নম্বর ঘাটে রো রো ফেরি এনায়েতপুরী, কে–টাইপ ফেরি বাইগার ও ইউটিলিটি ফেরি বনলতা নোঙর করে ছিল। প্রায় চার ঘণ্টা পর সকাল সাতটার আগে ঝোড়ো বাতাসের গতি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ফেরি চলাচল শুরু হয়।

এদিকে দৌলতদিয়া প্রান্তে তিনটির মধ্যে গত বুধবার থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৩ নম্বর ঘাট বন্ধ থাকায় কেবল ৪ ও ৭ নম্বর এই দুটি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। মাত্র দুটি ঘাট দিয়ে ঈদ–পরবর্তী সময়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন পারাপার কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। সেই কারণে দৌলতদিয়া প্রান্তে যানবাহনের লম্বা লাইন তৈরি হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক জেসানুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝোড়ো বাতাস এবং বৃষ্টির কারণে গতকাল গভীর রাত তিনটার কিছু পর পদ্মা নদী উত্তাল হয়ে ওঠে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সময় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাত সোয়া তিনটা থেকে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া নৌপথে ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার পর আজ সকাল সাতটার আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে আবার ফেরি চালু হয়। এ সময় নদী পার হতে ঘাটে আসা যানবাহন আবার ফেরিতে নদী পার হয়। তবে মাত্র দুটি ঘাট চালু থাকায় পারাপারে কিছুটা বিঘ্ন হচ্ছে।