নোয়াখালী-৪ আসনের কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করছেন বিএনপির প্রার্থী মো. শাহজাহান। আজ সকালে জেলা শহরের একটি মিলনায়তনে
নোয়াখালী-৪ আসনের কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করছেন বিএনপির প্রার্থী মো. শাহজাহান। আজ সকালে জেলা শহরের একটি মিলনায়তনে

প্রচারণায় মুখর নোয়াখালীর ছয় আসন, জামায়াত প্রার্থীর উঠান বৈঠকে বাধার অভিযোগ

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসন প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। জেলায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা প্রচারণায় নেমেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন।

এর মধ্যে নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নে নোয়াখালী-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে নারীদের উঠান বৈঠকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে জেলার অন্য কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

প্রচারণার প্রথম দিনে আজ বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলা ও নোয়াখালী পৌরসভার কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের নিয়ে এক প্রতিনিধি সভা করেন নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী মো. শাহজাহান। জেলা শহরের একটি কনভেনশন হলে আয়োজিত সভায় প্রার্থী ছাড়াও জেলা, সদর উপজেলা ও নোয়াখালী পৌরসভা বিএনপির বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন।

সভায় বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান কেন্দ্রপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হলে দলের সব পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। কারও মধ্যে কোনো ভুল-বোঝাবুঝি থাকলে তা ভুলে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামতে হবে।

একই দিন বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নোয়াখালী-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইসহাক খন্দকার দলীয় নেতা–কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মিছিল করেন। পরে জেলার দত্তেরহাট ও সোনাপুরে পথসভা করেন তিনি। জামায়াতের জেলা ও শহর শাখার নেতা–কর্মীরাও এতে অংশ নেন।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়ায় আজ বেলা ১১টায় পথসভা ও জনসংযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন। একই দিন বেলা একটার দিকে তিনি আবিরপাড়া ও দেওটি ইউনিয়নের কড়িহাটীপাড়ায়ও পথসভা করেন। এ ছাড়া একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. ছাইফ উল্যাহ চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন।

নোয়াখালী-৪ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইসহাক খন্দকার। আজ বিকেলে জেলার মাইজদীর টাউহল মোড়ে

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আংশিক) আসনের বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক পীরের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতা–কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। একই দিন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ কাজী মফিজুর রহমান কাপ-পিরিচ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালান। এ আসনে ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন।

নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু আজ নিজে কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেননি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাশ প্রথম আলোকে বলেন, প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতা–কর্মীরা দলে দলে ভাগ হয়ে কেন্দ্রভিত্তিক প্রচারণা শুরু করেছেন। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. বোরহান উদ্দিন একলাশপুর এলাকায় জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুরে গণসংযোগ এবং বাংলাবাজারে পথসভা করেন। একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী বেলায়েত হোসেন সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেন। এ বৈঠকে স্থানীয় এক যুবদল কর্মীর বাধার মুখে পড়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ। এ নিয়ে সেখানে কিছু সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম প্রচারণার প্রথম দিনে হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জনসংযোগ ও পথসভা করেন। একই আসনে ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ চরচেঙ্গা বাজার, ব্রিজ বাজার, খাসের হাটসহ বিভিন্ন বাজারে পথসভা করেন। এ ছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তানভীর উদ্দিনও প্রচারণা শুরু করেছেন।