
ইলিশ রক্ষায় ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিনিময় দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজবাড়ীর এক শ্রেণির জেলে ও অসাধু ব্যক্তিরা পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার করছেন। বিশেষ করে পয়লা বৈশাখ সামনে রেখে এই অবৈধ কার্যক্রম বেড়েছে।
জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পদ্মা নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রায় এক লাখ দুই হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও কয়েকটি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। দুপুরে জব্দ করা জাল নদীর পাড়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
এর আগে গতকাল রোববার পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, ২০টির মতো বড় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল এবং প্রায় ১৬০ কেজির মতো জাটকা জব্দ করা হয়। এ সময় জাটকা আহরণের দায়ে মধু সরদার, মাহতাব প্রামাণিক ও সাদ্দাম সরদার নামের তিন জেলেকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। একই সঙ্গে ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘের চেয়ে ছোট ইলিশ বা ‘জাটকা’ আহরণে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান খান। সার্বিক সহযোগিতা করে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় জেলেরা সুযোগ বুঝে পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় মাছ শিকারে নামছেন। এ সময় তাঁরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে ছোট ছোট ইলিশ আহরণ করছেন। অভিযানের খবর পাওয়ামাত্র জাল গুটিয়ে নদীর এক পাশে নালায় গিয়ে লুকিয়ে পড়ছেন। পয়লা বৈশাখে ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না।
আবদুল হালিম নামের এক জেলে বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের চাহিদা বেড়ে গেছে। জেলেরা সুযোগ বুঝে নদীতে নেমে পড়ছেন। জালে বড় ইলিশের চেয়ে ছোট আকারের ইলিশ বেশি ধরা পড়ছে। ১ কেজিতে ৮ থেকে ১২টি করে জাটকা হচ্ছে; দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব উল হক বলেন, জাটকা সংরক্ষণে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত শিকার, আহরণ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এক শ্রেণির জেলে ও অসাধু ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে নামছে। তবে জাটকা সংরক্ষণ উপলক্ষে জোরালো অভিযান চলছে। জেলার অন্যান্য উপজেলার বাজারগুলোতে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।