রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য করা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। সম্প্রতি তলো
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য করা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। সম্প্রতি তলো

রাজশাহীতে হামের উপসর্গে আরেক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বয়স্করাও

রাজশাহীতে সংক্রামক রোগ হামে শুধু শিশুরা নয়, বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। গতকাল বুধবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৫০ বছর বয়সী এক রোগীকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ৩৫ ও ১৪ বছর বয়সী দুই রোগীও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

এদিকে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ মাস বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (পিআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে শিশুটি মারা যায়। শিশুটির নাম আবদুর রহমান। বাবার নাম মাহবুর রহমান। বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাজারামপুর গ্রামে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ শংকর কে বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল দুপুর ১২টা থেকে আজ দুপুর ১২টার মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে শুধু একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২০ জন। ছুটি দেওয়া হয়েছে চারজনকে। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে এখন চিকিৎসাধীন ১৩২ জন। এ পর্যন্ত মোট রোগী ভর্তি হয়েছে ৩৪০ জন।

হাম আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধীন মো. কাইমুদ্দীনের বয়স ৫০। গতকাল তিনি হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে তাঁকে আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানো হয়। একইভাবে শাহাদী ইসলাম নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকেও ওই ওয়ার্ড থেকে আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের দুজনের রোগের জায়গায় হাম ও নিউমোনিয়া লেখা হয়েছে। একই দিন বদরুল ইসলাম নামের ৩৫ বছর বয়সী এক রোগীকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানোর সময় হাম থাকার সন্দেহের কথা উল্লেখ করা হয়।

কাইমুদ্দীন পেশায় রিকশাচালক। বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হেলালপুর গ্রামে। হাসপাতালে সঙ্গে আছেন স্ত্রী শামিমা বেগম। জানালেন, সাত দিন ধরে তাঁর স্বামীর জ্বর। তিন দিন বাড়িতে থেকে ওষুধ খেয়েছেন। উন্নতি না হওয়ায় তিন দিন আগে স্বামীকে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। মঙ্গলবার তাঁরা খেয়াল করেন, কাইমুদ্দীনের গলায় ঘামাচির মতো কিছু একটা হচ্ছে। এটি দেখেই চিকিৎসক তাঁকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। শামিমা বলেন, ‘প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা ও কাশি। জ্বরে সাপোজিটরেও কাজ হচ্ছে না।’

অন্যদিকে বদরুল ইসলামের (৩৫) বাড়ি জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার নলপুকুর গ্রামে। কৃষক বদরুলেরও এক সপ্তাহ ধরে জ্বর ছাড়ছিল না বলে জানালেন তাঁর স্ত্রী খালেদা খাতুন। তিনি বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে গিয়ে ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন তাঁর স্বামী। কিন্তু তাতেও জ্বর নামেনি। এর মধ্যে মুখে ঘা হয়। দেরি না করে হাসপাতালে আসেন। এখন চিকিৎসকেরা সন্দেহ করছেন, তাঁর স্বামীর হাম হয়েছে। তাই আইসোলেশন ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছে।

কিশোর শাহাদী ইসলামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পিয়ারাপুর এলাকায়। হাসপাতালে তার মা মেরিনা বেগম জানান, ৯ দিন ধরে জ্বর চলছে। সঙ্গে বমি, পাতলা পায়খানা ও কাশি। ৪ দিন আগে শাহাদীর শরীরে হাম বের হয়েছে। তাই হাসপাতালে এনেছেন।

হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে ছিল ৬ বছর বয়সী আরেক ছেলে শুভ রাব্বী। তারও একই ধরনের লক্ষণ। প্রচণ্ড জ্বরের কারণে হাসপাতালে তার এক আত্মীয়ের কোলে শিশুটিকে নেতিয়ে থাকতে দেখা যায়। তারও এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাকেও ভর্তি করার কথা ভাবছেন মা মেরিনা বেগম। তিনি জানান, রাব্বীকে যে হামের টিকা দেওয়া হয়নি, তা তিনি জানেন। কিন্তু শাহাদীর টিকা দেওয়া হয়েছিল কি না, তাঁর মনে নেই।

হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁরা কয়েক দিন ধরে উপসর্গ থাকা দু–একজন রোগী পাচ্ছেন। আজও ভর্তি হয়েছেন। ঠিক কতজন প্রাপ্তবয়স্ক ভর্তি হয়েছেন, সেটা নিয়ে তাঁরা কাজ করছেন। তথ্য সংগ্রহের পর পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।