সুমি ওরফে আলপনা
সুমি ওরফে আলপনা

স্বামীর দেখানো সেপটিক ট্যাংকে নিখোঁজ নারীর গলিত লাশ

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নিখোঁজের এক মাস আট দিন পর এক গৃহবধূর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ওই নারীর নাম সুমি ওরফে আলপনা (৩৫)। তিনি লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি গ্রামের আজমল মোল্যার মেয়ে ও কালিয়া উপজেলার শুক্তগ্রাম (পূর্ব পাড়া) এলাকার বাসিন্দা আল-আমীন মণ্ডলের (৪২) স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার পর শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সুমি। স্বজনেরা সম্ভাব্য একাধিক স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ বিষয়টির তদন্তে নামে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের একপর্যায়ে নিখোঁজের ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী আল-আমীনের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। পরে গতকাল বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী সুমিকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন আল-আমীন।

আল-আমীনের বরাতে পুলিশ জানায়, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশেই বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে গতকাল রাতেই ওই স্থান থেকে সুমির গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই সঙ্গে আল-আমীনকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, ওই গৃহবধূর নিখোঁজ–সংক্রান্ত জিডির পর ছায়া তদন্তে তাঁর স্বামীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে আল-আমীন হত্যার কথা স্বীকার করেন। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরেই হত্যাকাণ্ডের তথ্য মিলেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও বিস্তারিত তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।