
তিন ভাই ও এক বোনের পরিবারে সাত বছরের সাহেদ আশরাফ ছিল সবার ছোট। ছিল সবার আদরের। দুর্ঘটনায় মা, বাবা ও বোনের সঙ্গেই মৃত্যু হয়েছে তারও। আজ শুক্রবার বাদ জুমা পাশাপাশি কবরেই তাদের সবার দাফন হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা হয়। আশরাফসহ তার পরিবারের পাঁচজন লক্ষ্মীপুর থেকে প্রাইভেট কারে ঢাকায় যাচ্ছিল। পথে বাসের ধাক্কায় তাদের প্রাইভেট কার দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরে শুধু তার ভাই আবরার হোসেন (১২)।
দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন আশরাফের বাবা নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার চাতারপাইয়া এলাকার আবদুল মোমিন (৫০), তাঁর স্ত্রী ঝরনা বেগম (৪৪), তাঁদের মেয়ে লাবিবা আক্তার (১৮) ও প্রাইভেট কারের চালক জামাল হোসেন (৫২)। আবদুল মোমিনের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে হলেও তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের (৫ নম্বর ওয়ার্ড) তিতারকান্দি গ্রামে থাকতেন। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে তিনি সেখানে এসেছিলেন। আর প্রাইভেট কারের চালক জামাল হোসেন বরিশাল জেলার বাসিন্দা।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্টারলাইন পরিবহনের একটি বাস ও প্রাইভেট কার চট্টগ্রামমুখী লেনে ছিল। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় দ্রুতগতিতে বাসটি এসে প্রাইভেট কারটির ডান দিকে জোরে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় প্রাইভেট কারটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
আজ জুমার নামাজের পর তিতারকান্দির গ্রামের বশা হাজি পাটোয়ারীবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে চারজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারজনকে দাফন করা হয়। পাশাপাশি কবরে চারজনের দাফনের সময় স্বজনদের পাশাপাশি এলাকাবাসীও শোকে কাতর হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মুফতি আবদুল মোমিন ঢাকার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। এলাকায় তিনি ধর্মপ্রাণ ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ কারণে সবাই তাঁকে সম্মান করতেন। তাঁর বড় ছেলে মো. হুজাইফাও (২৬) মাদ্রাসাশিক্ষক। তিনি দুর্ঘটনার দিন বাড়িতেই ছিলেন।
আবদুল মোমিনের চাচাতো ভাই মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এমন ঘটনা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। একটি পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। এটা শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো গ্রামের জন্য শোক।’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। খবর পাওয়ার পর আমি নিজেই শোকাহত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চোখের সামনে প্রিয়জনদের এমনভাবে হারানোর যন্ত্রণা সত্যিই অসহনীয়। এই কঠিন সময়ে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।’