মৌলভীবাজারের জুড়ীতে একটি জলাশয় সেচে মাছ ধরার সময় কচুরিপানার আড়াল থেকে প্রায় ৭ ফুট লম্বা একটি অজগর পাওয়া গেছে। কিছুদিন ধরে গ্রামের হাঁস-মুরগি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাচ্ছিল। এলাকাবাসীর ধারণা, ক্ষুধা মেটাতে এই অজগরই সেগুলো খেয়ে ফেলেছে।
গতকাল রোববার বিকেলে জুড়ী উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে অজগরটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাতেই এটি বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
এলাকার কয়েকজনের ভাষ্য, গ্রামটিতে প্রায় তিন বিঘা জায়গাজুড়ে একটি জলাশয় আছে। মাছ ধরার জন্য তিন-চার দিন ধরে সেচযন্ত্র দিয়ে জলাশয়ের পানি সেচ দেওয়া হচ্ছিল। গতকাল বিকেলে জলাশয় শুকিয়ে এলে লোকজন মাছ ধরতে নামেন। একপর্যায়ে মানুষের শব্দ পেয়ে কচুরিপানার আড়ালে থাকা অজগরটি বেরিয়ে ছুটতে শুরু করে। এ সময় ভয়ে মাছ ধরা ফেলে অনেকে সরে পড়েন।
তবে পালাননি নাঈম উদ্দিন (২২) নামের এক তরুণ। পেশায় রাজমিস্ত্রি নাঈম সাপটিকে ধরে বস্তাবন্দী করেন। রাত নয়টার দিকে সাপটিকে বন বিভাগের জুড়ী রেঞ্জ কার্যালয়ের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সাপটির ওজন ছিল প্রায় আট কেজি।
পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক বন আছে। আবাসস্থল ও খাবারের সংকটে প্রায়ই বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য।
নাঈম বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি জেনেছেন, অজগর নির্বিষ সাপ। সাপটি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে আতঙ্কিত লোকজন এর ক্ষতি করে ফেলতে পারতেন। তাই তিনি এটিকে ধরে বস্তাবন্দী করে রাখেন। পরে উপজেলা সদরে রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে হস্তান্তর করেন। প্রায় দুই বছর আগে ধানখেতে কাজ করার সময়ও তিনি একইভাবে একটি অজগর ধরে বন বিভাগের কাছে দিয়েছিলেন।
সাপটি হস্তান্তরের সময় স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস শুকুর (৫৫) বলেন, ‘কয়েক দিন ধরি কী যেন রাইতে আইয়া মানুষের হাঁস-মুরগি খাইয়া যাইত। কে করত, বুঝা গেছে না, অখন বুঝা গেছে। হাঁস-মুরগি কার পেটে ঢুকত, অউ বুঝলাম।’
পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক বন আছে। আবাসস্থল ও খাবারের সংকটে প্রায়ই বন্য প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য।
গতকাল রাতেই পুটিছড়া বিটের বনে অজগরটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রথম আলোকে জানান বন বিভাগের জুড়ী কার্যালয়ের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন আহমেদ। খাবারের সন্ধানে অজগরটি আশপাশের কোনো বন থেকে লোকালয়ে চলে আসতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।