
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে এক ভক্ত তৈরি করেছেন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পতাকা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশালকায় এই পতাকা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দূরদূরান্তের মানুষ।
আবু কাউছার (৫৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
আবু কাউছার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার সন্ধানে ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়া পাড়ি জমান আবু কাউছার। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের খেলা তিনি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে দেখেন। দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের তৎকালীন আলোচিত খেলোয়াড় আঞ্জুয়ানের ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখে তিনি মুগ্ধ হন। এর পর থেকে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল দলের ভক্ত হয়ে যান। ২০১৩ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। নিজ গ্রামে পিস কোরিয়া ক্যাফে নামে একটি রেস্তোরাঁ তৈরি করেন। ওই রেস্তোরাঁর কাপ, প্লেট ও মগের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া দলের পতাকা। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অনেক আগে ফিরলেও সে দেশের ফুটবল দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কমেনি।
২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে আবু কাউছার প্রথমবার ঢাকার বিমানবন্দর পদচারী–সেতু এলাকায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টাঙিয়েছিলেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আসরের আগেই নিজের বাড়ি খাল্লা গ্রাম থেকে পাশের ইউনিয়ন তেজখালি পশ্চিম পাড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা টাঙান। সেবার তাঁর খরচ হয় পাঁচ লাখ টাকা। এবার আরও এক কিলোমিটার বাড়িয়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করেছেন। এবার খরচ হয়েছে প্রায় সাত লাখ টাকা। এই টাকা তিনি তাঁর রেস্তোরাঁর আয় থেকে খরচ করেন। পতাকাটি তিনি খাল্লা বিষ্ণু রামপুর থেকে বাহাদুর হয়ে খাল্লা পশ্চিম পাড়া সড়কজুড়ে টাঙিয়েছেন।
আবু কাউছার বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া দেশ ও ফুটবল দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁর এমন প্রয়াস। তাঁর এই কাজে এলাকাবাসীসহ স্বজনেরা উৎসাহিত করছেন।
প্রতিবেশী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কোরিয়া থেকে আসার পর আবু কাউছারের ওই দেশের প্রতি টান বেড়ে যায়। আমরাও তাঁকে উৎসাহ দিচ্ছি। আমরা চাই কোরিয়া এবারের বিশ্বকাপে ভালো ফলাফল করুক। আমি কোরিয়া দলের সাফল্য কামনা করি।’
গ্রামের আরেক বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, আবু কাউছার দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশটির প্রতি তাঁর এখনো অনেক আবেগ কাজ করে। ওই দেশের প্রতি তাঁর আলাদা টান ও ভালোবাসা আছে। যে কারণে এবার তিনি আরও বড় পতাকা টাঙিয়েছেন।