নাটোরের সিংড়া থানা চত্বরে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। বুধবার সকালে
নাটোরের সিংড়া থানা চত্বরে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। বুধবার সকালে

পুলিশের ব্রিফিং

বাড়ির আঙিনায় টয়লেট নির্মাণে বাধা দেওয়ায় মাকে হত্যা করে পুঁতে রাখেন ছেলে

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় নিখোঁজের ১৫ দিন পর এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধারের নেপথ্যের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, বাড়ির আঙিনায় টয়লেট নির্মাণে বাধা দেওয়ার আক্রোশে ওই বৃদ্ধাকে গলা টিপে হত্যা করেন তাঁরই এক ছেলে। পরে টয়লেটের গর্তেই মায়ের মরদেহ পুঁতে রাখেন। সেখান থেকে তুলে পরে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় ফেলেন।

নিহত ওই নারীর নাম মারিয়া বেগম ওরফে শরিফা (৭৫)। তিনি আগপাড়া গ্রামে তিন সন্তানের বাড়িতে পালাক্রমে বসবাস করতেন। তাঁকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সেজ ছেলে জনাব আলীর (৫৫) বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুম করার চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় জনাবের ছেলে আল আমিনকেও আসামি করা হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে সিংড়া থানা চত্বরে প্রিস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। তিনি বলেন, ২৩ মে মারিয়া বেগমের সেজ ছেলে জনাব আলী বাড়ির আঙিনায় টয়লেট নির্মাণের জন্য গর্ত করেন। এতে বাধা দেন বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম। পরিবারের প্রধান হিসেবে মা জনাব আলীকে ওই জায়গা থেকে গর্ত সরিয়ে নিতে বলেন। দুই দিন পর হঠাৎ মারিয়া বেগম নিখোঁজ হন। ৬ জুন এ বিষয়ে বৃদ্ধা মারিয়ার এক মেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার কিছু কুকুর বাড়ির পাশের এক ডোবায় পরিত্যক্ত একটি বস্তা নিয়ে টানাটানি শুরু করে। স্থানীয় লোকজন কৌতূহলবশত বস্তার মুখ খুলে নিখোঁজ মারিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পরে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ ওই বৃদ্ধার সেজ ছেলে জনাব আলী ও নাতি আল আমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে জনাব আলী তাঁর মাকে গলাটিপে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন এবং নাতি আল আমিন দাদির লাশ গোপন করতে বাবাকে সহযোগিতা করার কথা জানান।

পুলিশ সুপারের দাবি, জনাব আলীর ভাষ্যমতে, ২৫ মে রাত নয়টার দিকে নিজ ঘরে তিনি তাঁর মাকে গলাটিপে হত্যা করেন। পরে মরদেহ টয়লেটের গর্তে পুঁতে রাখেন। কয়েক দিন বাদে মরদেহের গন্ধ ছড়ালে তিনি তাঁর ছেলে আল আমিনের সহযোগিতায় মরদেহটি তুলে বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে দিয়ে আসেন। তাঁদের এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আজ সিংড়া থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় বাবা–ছেলেকে আদালতে পাঠান হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) নূর মোহাম্মদ আলী, সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম।