
চট্টগ্রামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের দুই কর্মচারী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ গতকাল বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, দলিল নিবন্ধন(রেজিস্ট্রি) করার সময় সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশেই তাঁরা ঘুষ নিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার এক আইনজীবীর দেওয়া অভিযোগ পেয়ে পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। এ সময় ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল ফারুক ইসলাম ও রূপণ দাশকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা বলেন, ‘সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশেই আমরা ঘুষ নিয়েছি।’
জবানবন্দিতে ফারুক ইসলাম বলেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে ঘুষের দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তাঁর কাছে পাঠানো হচ্ছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের একটি দল এসে তাঁদের কার্যালয়ে হাজির হয়। তারা ঘুষের দুই লাখ টাকা, সাবরেজিস্ট্রারসহ তাঁদের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
উমেদার রূপণ দাশ তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, ১৫ বছর ধরে তিনি কর্মরত। দুদক যে দলিলটি নিবন্ধনে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে, সেটির সরকারি ফি ১৫ হাজার টাকা। তাঁরা বাড়তি দুই লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। প্রথমে তাঁরা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশনে গেলে নেওয়ার কথা ছিল। দলিল দাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় বাসায় কমিশন যাওয়ার কথা ছিল। দলিলটিতে কোনো ত্রুটি ছিল না। এরপরও তারা ঘুষ হিসেবে বাড়তি দুই লাখ টাকা নিয়েছেন সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে।
দুদক জানায়, এক আইনজীবী তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য নগরের আদালত ভবনে অবস্থিত পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রাখা হয়। পরে ওই আইনজীবী দুদকের ‘হটলাইন ১০৬’ নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর মঙ্গলবার বিকেলে তিনি ঘুষের টাকা দিতে যান। এ সময় অভিযান চালিয়ে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে এই ঘটনায় মামলা হয়। পরদিন গতকাল গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে দুজন জবানবন্দি দেন।
দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, তিনজনের মধ্যে সাবরেজিস্ট্রার ছাড়া বাকি দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তাঁরা দলিল নিবন্ধনে সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি দেওয়ার সাবরেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন মহানগর দায়রা জজ আদালত।
ঘুষ নিয়ে দলিল নিবন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকসু প্রথম আলোকে বলেন, ঘুষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ রকম হতে পারে না।
ঘুষের টাকাসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আল আমিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘুষ লেনদেনের পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করতে দুদকের তদন্ত অব্যাহত আছে।